নির্বাচন যখন হাড্ডাহাড্ডি হয় তখন ভোটের শেষেই মারামারি হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি যখন হয়, তখন ভোটের শেষে একটা মারামারি হয়। কালকেও হয়েছে। একটা বাচ্চা মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংলাপের দশম দিনে গণফোরামের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এর আগের দিন বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদসহ ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভোটকে সুষ্ঠু ভোট দাবি করলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে বাচোর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর পুলিশের গুলিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

শিশুর বাবা-চাচা ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি চালালে শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, ঘটনা সম্পর্কে জানতে তিনি রাত ১০টায় ডিসি ও এসপিকে ফোন করেন। তিনি বলেন, ডিসি এসপিকে ফোন করে ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। নির্বাচন শেষ হয়ে গিয়েছিল। শেষ হয়ে যাওয়ার পরই মেম্বার প্রার্থীরা একজনের উপর হামলা করে বসেছে।

সিইসি বলেন, আমাদের এক সহকর্মী প্রায় বলে থাকেন আমাদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা আছে। আমি নির্বাচন করবো। কিন্তু আমাকে জিততেই হবে। মানে হারতে যে হতে পারে এটা কেউ মেনে নিচ্ছে না। এই মনস্তাত্ত্বিক একটা দৈন্যতা আমাদের মধ্যে আছে। এ কারণে এই সহনশীলতা যদি জাগ্রত করা না যায় তাহলে একটা সংকট থেকে যাবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান অনেক উচুতে মন্তব্য করে সিইসি বলেন, দেশের রাজনীতি আপনারা নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা কখনো রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা শুধু ভোটের বাক্স, একটা ভোটার গিয়ে ওখানে কাগজটা ফেলবে দায়িত্বটা সীমিত।

দেশের রাজনীতির সংস্কৃতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাকে ধারণ করা লালন করা উন্নত করার যে দায়িত্ব আপনাদের৷

নিজেদের নগণ্য ব্যক্তি দাবি করে সিইসি বলেন, আপনাদের (রাজনীতিবিদদের) অনেক বড় করে দেখতে চাই। আপনাদের অনেক বড় করেই দেখি৷ এরপর যারা মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনাদের দায়িত্ব অনেক বড় হয়ে যায়৷ আপনাদের যেমন প্রত্যাশা আছে আমাদের উপর সামান্য একটু, আমাদের কিন্তু অনেক বড় প্রত্যাশা আপনাদের কাছে।