ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) নির্বাচন কমিশনের (ইসিপি) সামনে সরকার বিক্ষোভ করতে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ।

বুধবার দেশটির তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেবকে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। খবর ডনের।

সানাউল্লাহ বলেন, সরকার পিটিআইয়ের কর্মীদের নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভের অনুমতি দেবে না। কেননা, এটি ইসলামাবাদের সুরক্ষিত ‘রেড জোন’ এলাকার মধ্যে পড়ে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিটিআইকে এফ-৯ পার্ক বা প্যারেড গ্রাউন্ডের কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু রেড জোনে বিক্ষোভ করার কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না। যদি জোর করে কেউ এই এলাকায় ঢুকতে চায় তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সানাউল্লাহ টুইটারে বলেন, রেড জোনে বিক্ষোভের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং পিটিআইয়ের দুর্বৃত্তরা ইসিপি কার্যালয়ে হামলা করতে পারে এমন শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সুতরাং, যদি কেউ রেড লাইন অতিক্রম করে তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এফ-৯ পার্ক বরাদ্দ করেছেন, পিটিআই চাইলে সেটি ব্যবহার করতে পারে।

পিটিআই নেতা আসাদ উমর সমর্থকদের ৪ আগস্ট ইসলামাবাদ, লাহোর ও পেশওয়ারে ইসিপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের কথা স্মরণ করে দিয়ে একটি টুইট করার ঘণ্টা কয়েক পর সানাউল্লাহ এ বিবৃতি দেন।

এর আগে সোমবার পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান সমর্থকদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সিকান্দার সুলতান রাজার পদত্যাগ দাবিতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দেন। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সবার রয়েছে। আমরা তাদের জন্য দুটি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছি। যদি তারা সহিংস হয়ে উঠে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সানাউল্লাহ বলেন, ইসিপির রায়ে প্রমাণিত হয়েছে ইমরান খান ‘বিদেশি এজেন্ট’ এবং পিটিআই ‘বিদেশি মদদপুষ্ট রাজনৈতিক দল’। তিনি টাকা নিয়েছেন পাকিস্তানের রাজনীতিকে কলুষিত করতে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেল কেবিনেট বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নেবে। এই বিদেশি এজেন্টকে মোকাবিলা করা হবে।

পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আকবর এস বাবরের করা মামলার রায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সিকান্দার সুলতানা রাজা জানান, নিষিদ্ধ উৎস থেকে পিটিআই তহবিল পেয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ধনকুবের আরিফ নাকভি এবং আরও ৩৪ জন বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে তহবিল পায় দলটি। পিটিআই আটটি অ্যাকাউন্টের মালিকানা নিয়েছে এবং ১৩টি অ্যাকাউন্ট গোপন রেখেছে।