বাংলাদেশ ও ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে চলতি মাসের শেষে এ বৈঠক হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তি হতে পারে।

শেখ হাসিনার ভারত সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামসের সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, আইন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ (এএফডি) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের জেআরসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকটি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে জেআরসি বৈঠকের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এতে রাজি হয়েছে ভারত। ফলে প্রায় এক দশক পরে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী বৈঠক ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল। তাহলে দিল্লিতে কেন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিল্লি বৈঠকটি আয়োজন করতে চাচ্ছে। আর এতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগস্ট মাসের শেষে বৈঠকের তারিখ দেওয়া হয়েছে। তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ভারত তারিখ ঠিক করে বাংলাদেশকে জানাবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর-সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। তবে বৈঠকে জেআরসি বৈঠক নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদী থাকলেও শুধু গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছে। আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের জেআরসি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।

২০২৬ সালে দুই দেশের মধ্যকার করা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ফলে বৈঠকে নতুন করে এ নদীর পানিবণ্টনের ইস্যুটি প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া ফেনী, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমার নদী নিয়েও আলোচনা করা হবে জেআরসি বৈঠকে।

এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে সমকালকে বলেন, দীর্ঘদিন পরে দুই দেশের এ বৈঠকটি হতে যাচ্ছে; ফলে বৈঠকে অমীমাংসিত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এখানে শুধু পানিবণ্টন নয়, নদীর অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, উভয় দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণে আগাম তথ্য, নদীর বাঁধসহ সব বিষয়ে আলোচনা হবে।

তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নদী নিয়ে পূর্ণ চুক্তির জন্য জোর দেবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে আগের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খসড়াটি সামনে নিয়ে আসতে পারে ভারত। তবে বাংলাদেশ পূর্ণ চুক্তির দিকে জোর দেবে।

জানা গেছে, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির খসড়া ২০১১ সালে চূড়ান্ত করা হয়। খসড়া অনুসারে, তিস্তার পানি উভয় দেশে সমানভাবে পাবে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরে চুক্তিটি হওয়ার কথা ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা আর সই হয়নি। আর এরপর থেকে ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশকে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার ভারত সফরের কথা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তিনি ভারত সফর করেন।

২০২১ সালে মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং একই বছরের ডিসেম্বরে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাংলাদেশ সফর করেন। একই বছরে একটি দেশে কোনো দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সফর একটি বিরল ঘটনা।