কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের যাত্রীবাহী নৈশবাসে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। ৬৬টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম এটি। 

আজ শুক্রবার সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২ আগস্ট ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের বাসটি সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি দিবারাত্রি হোটেল থেকে খাবার বিরতি শেষে যাত্রা শুরু করলে পথে ১০ থেকে ১২ জন তরুণ যাত্রীবেশে বাসে ওঠে এবং বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর তারা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের সকলের চোখ ও মুখ বেঁধে চালককে জিম্মি করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের কাছে থাকা মুঠোফোন, টাকা, স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। এ সময় বাসে থাকা এক নারী যাত্রীকে ৪ তরুণ দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ ধরনের পৈশাচিক ও বর্বর ঘটনায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

জানানো হয়, বিগত বছরগুলোতেও বাসে বেশ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইতোপূর্বেও এই একই রুটে ছোঁয়া পরিবহন বাসে এমন একটি পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহের এ সড়কটি নারীর জন্য বরাবরই অনিরাপদ। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মধুপুরের বনাঞ্চলের নির্জন এলাকায় গত ১৩ বছরে চারবার চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনজন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। খুন হয়েছেন দুই নারী। অপরাধীরা সহজেই পালাতে পারছে বলে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

গণপরিবহন, রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র নারী ও কন্যার প্রতি সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ঘটনাটিতে সড়ক পরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ধরণের আশঙ্কা তৈরি হলো। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গণপরিবহনে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপদ যাত্রী পরিবহন ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহন মালিক ও চালকসহ পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতার মধ্যে আনার জন্য এবং যাত্রীবাহী নৈশবাসে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। সেই সাথে এই ঘটনার শিকার যাত্রীদের সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি জানাচ্ছে।