শেখ কামাল বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, তিনি একদিকে যেমন সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তেমনি তিনি ছিলেন একজন ভালো ক্রীড়াবিদ ও দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক। অন্যদিকে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এ দেশের তরুণ সমাজের জন্য তিনি আদর্শ। শুধু নিজস্ব নেতাকর্মীদের মাঝেই নয়, শেখ কামালকে দেশের সব শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। 

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘শেখ কামাল: ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর আয়োজন করে। 

সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, একুশে পদকপ্রাপ্ত জেষ্ঠ্য সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, শেখ কামালের বন্ধু ও সহপাঠী নুরুল আলম এবং তৌহিদ ইসলাম বাদল। 

অনুষ্ঠানে আবদুল মান্নান বলেন, শেখ কামালের পদ পদবীর প্রতি কোনো লোভ ছিলো না। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, সবখানেই তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমান তরুণ সমাজকে তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

অজয় দাশগুপ্ত বলেন, আমি যদি এখন ছাত্র রাজনীতি করতাম, তাহলে শেখ কামালকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন করতাম। দেশের বর্তমান পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসব আয়োজন করা যেতে পারে। শুধু জন্মদিনে শেখ কামালকে স্মরণ করলেই হবে না, তাকে সারা বছর স্মরণ করতে হবে। শুধু নিজস্ব নেতাকর্মীদের মাঝেই নয়, শেখ কামালকে দেশের সব শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। 

মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, শেখ কামালের সাংগঠনিক দক্ষতা ছিলো অভূতপূর্ব। তিনি অনেক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক হওয়া স্বত্ত্বেও সেখানে তিনি বড় পদ নিতেন না। পর্দার আড়ালে থেকেই তিনি কাজ করে যেতেন। তার রাজনৈতিক প্রতিভা ছিল অকল্পনীয়। 

কামরুল হাসান খান বলেন, তরুণদের মধ্যে কিছু করে দেখানোর স্পৃহা জাগিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা শেখ কামালের মধ্যে ছিলো। তিনি যেই সংগঠনে হাত দিতেন, সেই সংগঠনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতেন। তিনি আবাহনী ক্রীড়া চক্রকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। একইসঙ্গে স্পন্দনকেও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। রাজনীতির ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিলো। এই সব কিছুই তিনি পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে। আজ তরুণ প্রজন্মের জন্য শেখ কামাল একজন আদর্শ। 

আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, শেখ কামালের জীবন দর্শন, তার বিনয়ী মনোভাব এবং জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে তরুণ সমাজকে এগিয়ে যেতে হবে।