বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো প্রয়োজন। তবে অবশ্যই সহনীয় মাত্রায় হবে। জনগণের দুর্ভোগ হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথাও বলেন।

শুক্রবার রাজধানীতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুততম সময়ে জ্বালানি তেলের দাম ৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তে পারে।

নসরুল হামিদ বলেন, পেট্রোল, অকটেন নিয়ে চিন্তা নেই, সমস্যা মূলত ডিজেল নিয়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখানে কোনো ভর্তুকি নেই। লোকসান দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসির লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তাই দাম সমন্বয় করার কথা চিন্তা করছে সরকার। তবে তা জনগণের জন্য সহনীয় হবে। সরকার একটি কর্মপরিকল্পনা বের করার চেষ্টা করছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেলে এখানেও তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। আবার কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে।

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মাধ্যমে না করে নির্বাহী আদেশে করা হচ্ছে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করছে আপাতত নির্বাহী বিভাগের হাতে থাকলেই ভালো। বিশ্ববাজারে দাম কমার পরও দেশে দাম বৃদ্ধির তোড়জোড় কেন জানতে চাইলে নসরুল হামিদ বলেন, কতটা কমেছে, সে বিষয়টি বুঝতে হবে। দর উঠেছিল ১৭০ ডলারে, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৪ ডলার। ৭৯ ডলারের ওপরে গেলে লোকসান দিতে হয়।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী গতকাল বলেন, বিষয়টি বিইআরসির এখতিয়ারে। তারা গণশুনানি গ্রহণ করে পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করে এনেছে। চলতি অথবা আগামী মাসে দর ঘোষণা করতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্র্রতি গ্যাসের যে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা ২০২১ সালের দর। যুদ্ধের কারণে অনেক দাম বেড়ে গেছে। এখন আবার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

গত জুন মাসে গ্যাসের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ায় বিইআরসি। সে সময় বাসাবাড়ির এক চুলার মাসিক বিল ৯৯০, দুই চুলার বিল ১০৮০ টাকা করা হয়।

লোডশেডিংয়ের ফলাফল কী- এমন প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ গতকাল বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ লোডশেডিং করছে। রাজধানীতে নির্ধারিত সময়ে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এক ঘণ্টার লোডশেডিং ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মাস শেষে বিল এলে সাশ্রয়ের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা মিলবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা চাইলেও রাত ৮টার পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই চালু রাখতে দেওয়া হবে না।