বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভের (বিডিএস) মাধ্যমে জমিসংক্রান্ত সব সমস্যা দূর হবে বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। শনিবার মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ভূমির মালিকানা, বেদখল, মামলা-মোকদ্দমাসহ এ-সংক্রান্ত যাবতীয় বিরোধ দূর হবে এ জরিপের মাধ্যমে।

এর আগে বুধবার পটুয়াখালীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিডিএসের কার্যক্রম শুরু হয়। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই জেলায় জরিপ শেষে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে পরিচালনা করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভূমি জরিপ ঠিকভাবে না হওয়া ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকট ডেকে আনে। মাঠ পর্যায়ের অসৎ কর্মকর্তা, অসাধু ভূমির মালিক, দালাল কিংবা ভূমিদস্যুর যোগসাজশে অনেক সময় ভুল জরিপ হয়। অসাবধানতায় ত্রুটিপূর্ণ জরিপের ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে কোনোভাবে যদি প্রকৃত মালিক ছাড়া জমি অন্য ব্যক্তি কিংবা সরকারের নামে চলে যায়, সে ক্ষেত্রে নিষ্পত্তিতে মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত যেতে হয়। তবে ভূমিসংক্রান্ত অনেক মামলা ৫০-৬০ বছরেও নিষ্পত্তি হয় না। এ ধরনের মামলা চালাতে অনেক পরিবার কয়েক প্রজন্মে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিডিএসের মাধ্যমে জরিপ শেষ হলে এ সংকট দূর হবে। নাগরিকরা দীর্ঘমেয়াদি হয়রানি ও বিপুল অর্থ ব্যয় থেকে মুক্তি পাবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় এক হাজার ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিডিএসের কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশের ভূমির জরিপ করা হবে। নির্ভুল ও কম সময়ে ডিজিটাল ভূমি জরিপ নিশ্চিতে এ প্রকল্পে স্যাটেলাইট, ড্রোন এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের সমন্বয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।