জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী সোমবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বঙ্গমাতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কোরআনখানি, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

সোমবার সকালে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বঙ্গমাতার কবরে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বঙ্গমাতাসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বঙ্গমাতার  জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের একটি চিত্র। ছবি: ফোকাস বাংলা

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, আবদুর রহমান, এএইচএম খায়রুজ্জমান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম পৃথকভাবে বনানী কবরস্থানে বঙ্গমাতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে তাঁরা কবর জেয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করেন।

জন্মবার্ষিকীতে বনানীতে ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কবরে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের শ্রদ্ধা। ছবি: ফোকাস বাংলা

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, মহিলা শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গমাতার কবরে শ্রদ্ধা জানান।

দিনটি উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২২ প্রদান' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ নিবন্ধ।

আরও আয়োজন: দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ, কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিল করেছে। শাখা সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ মহানগর দক্ষিণের নেতারা।

সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মালেকা খায়রুননেছা। আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান।

বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগের কর্মসূচির একটি চিত্র। ছবি: ফোকাস বাংলা

সম্প্রীতি বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে 'বঙ্গমাতা :ইতিহাসের সাহসী মানুষ' শীর্ষক আলোচনা সভা করেছে। সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগের কর্মসূচির একটি চিত্র। ছবি: ফোকাস বাংলা

জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে 'বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামের নেপথ্যের সংগঠক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতাসহ তাঁর পরিবারের হত্যাকারীদের বিচার হলেও হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন হয়নি। দেশের ঐক্য রক্ষায় পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানসহ সেই কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরি। তদন্ত কমিশন গঠন করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও লেখক সুভাষ সিংহ রায়, দৈনিক আমাদের অর্থনীতির এডিটর ইনচার্জ মাসুদা ভাট্টি প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং উপকমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন।