দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপিত আইসিটি ল্যাবের বেশিরভাগই ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংসদীয় কমিটিতে। বলা হয়েছে, এগুলো চাদরে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ল্যাবের কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বা প্রধান শিক্ষকদের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও ঢালাওভাবে এমন অভিযোগ করা ঠিক হবে না। মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব অভিযোগ ওঠে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আব্দুল কুদ্দুস, ফজলে হোসেন বাদশা, আব্দুস সোবহান মিয়া, এমএ মতিন এবং মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

সূত্র জানায়, বিকল্পধারার সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরীসহ একাধিক সদস্য আইসিটি ল্যাব ব্যবহার না হওয়া এবং প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকার অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইসিটি ল্যাব শুরু থেকেই চাদর বা টাওয়েল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা রয়েছে। কাগজ-কলমে আইসিটি ল্যাব দেখানো হলেও বাস্তবে আইসিটিতে দক্ষ ছাত্রছাত্রী নেই বললেই চলে।

সরেজমিন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাঁরা বলেন, আইসিটি বিষয়ে পড়তে বলা হলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা পারে। কিন্তু কম্পিউটার চালু করতে বললে বা কোনো প্রোগ্রাম ওপেন করতে বললে তারা পারে না। মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো যথাযথ তদারকি করছে না বলেও তাঁরা অভিযোগ তোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাবের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কতজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। এরই জের ধরে এসব অভিযোগ উঠেছে।

রুয়েটের ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ: বুধবারের বৈঠকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতির তদন্তসহ চরটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। রুয়েটের দুর্নীতি নিয়ে ইউজিসি একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। পরে কমিটি ওই প্রতিবেদন দেখতে চেয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রুয়েটের উপাচার্যের দুর্নীতির তদন্ত কমিটিতে প্রমাণিত। তদন্ত প্রতিবেদন কমিটিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তুলাধুনা: বৈঠকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। এ সময় অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শাহ নইমুল কাদেরকে তুলাধুনা করা হয় বলে জানা গেছে।

বৈঠকে অভিযোগ উঠেছে- একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে একই ঠিকাদারকে বারবার কাজ দেওয়া হচ্ছে। অনেক ঠিকাদার কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ শুরু করে না। শুরু করলেও কিছুদিন পর ফেলে রাখা হয়। প্রতিবেদনে কাজ চলমান বলা হলেও বাস্তবে দেখা যায়, কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার বেশিরভাগই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। তারা দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলেও বৈঠকে অভিযোগ করা হয়।