রাজধানীর পান্থপথে আবাসিক হোটেলে নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাইম সিদ্দিকীকে গলা কেটে হত্যার বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যাকারী তার পূর্বপরিচিত ছিল। হত্যার পরিকল্পনাটিও ঘাতকের পূর্বপরিকল্পিত ছিল। সে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেই এখানে নিয়ে এসেছিল।

হত্যার ধরণ সম্পর্কে জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, হত্যার ধরণে মনে হয়েছে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি দিয়ে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, জান্নাতুল নাইম সিদ্দিকী ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগে অধ্যয়নরত একজন চিকিৎসক। এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পারি, তিনি তার পূর্বপরিচিত রেজাউল করিম রেজা নামের একজনের সাথে এখানে এসেছিলেন। আমরা তার সম্পর্কে প্রাইমারি কিছু তথ্য পেয়েছি। আরও বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করি, হত্যাকারীকে খুব দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

এর আগে বুধবার রাতে কলাবাগান থানা পুলিশ ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামের একটি আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে জান্নাতুল নাইম সিদ্দিকীর মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনী বিষয়ক একটি কোর্সে পড়ছিলেন।

জানা যায়, তার বাসা রাজধানীর শাজাহানপুরে। গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। বুধবার সকাল ৮টায় রেজাউল করিম রেজা নামে এক যুবকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু জাফর সমকালকে বলেন, রেজাউল করিম রেজা নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই চিকিৎসক হোটেল কক্ষে উঠেছিলেন। বুধবার সকাল ৮টায় তারা হোটেলটিতে চেক ইন করেন। ধারণা করা হচ্ছে সকাল ৮ থেকে ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, হত্যার পর বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যায় ওই যুবক। হোটেলের চতুর্থ তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষে তার মরদেহ বিছানায় পড়ে ছিল। তার শরীরে একাধিক জখমের দাগ ছিল।