বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১ কোটি ৩১ লাখ মানুষ। এ ছাড়া প্রাক-ডায়াবেটিস অবস্থায় আছেন ১ কোটি ৭০ লাখ লোক। প্রাণীর শরীরে ইনটেসটিনাল অ্যালকালাইল ফসফেটস (আইপি) অ্যানজাইম কম হলে ডায়াবেটিস হয়। মানুষের শরীরে এ অ্যানজাইমের মাত্রা স্টুল অ্যালকালাইন ফসফেট পরীক্ষার মাধ্যমে বের করা যায়। এতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) 'এ' ব্লকে প্রিভেনশন অব ডায়াবেটিস মেলিটাস (ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ) নিয়ে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।

সিম্পোজিয়ামে বক্তারা জানান, ডায়াবেটিস একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। ৪৬ কোটির বেশি লোক এ রোগে ভুগছেন। আরও প্রায় ৪৬ কোটি লোক প্রাক-ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। বিশ্বে ২০ কোটি মানুষের ডায়াবেটিস এখনও অশনাক্ত অবস্থায় আছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে প্রতিটি পরিবার ডায়াবেটিসের পেছনে ৮৬২ ডলার খরচ করে। প্রতি বছর ১ কোটি ৩১ লাখ লোকের জন্য ১ লাখ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়। এ টাকা দিয়ে প্রতি বছর দেশে ৪টি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব বলে জানান বক্তারা।

বিএসএমএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মধু এস মালো মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু ইঁদুর মডেল নিয়ে কাজ করেছি। যে মাউসগুলোর ইনটেসটিনাল অ্যালকালাইল ফসফেটস ছিল না, পরীক্ষা করে দেখতে পেলাম তাদের ডায়াবেটিস আছে। তিনি বলেন, অ্যানিমাল স্টাডির পর হার্ভার্ড থেকে চলে আসি। এখানে হিউম্যান স্টাডি শুরু করি। আমি দুটো গ্রুপকে নিলাম। এক গ্রুপের আইপি অ্যানজাইম বেশি ও অন্য গ্রুপে কম। তাঁদের আমি পাঁচ বছর পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, যাঁদের আইপি অ্যানজাইম কম তাঁদের ১৪ গুণ বেশি ডায়াবেটিস হচ্ছে। তিনি বলেন, এই আবিস্কারের ভিত্তিতে টেস্ট ডেভেলপ করেছি। যার নাম স্টুল অ্যালকালাইন ফসফেট টেস্ট। তিনি আরও বলেন, ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষের ডায়াবেটিস স্ট্ক্রিনিং করতে হবে। তাঁদের মধ্যে আইপি অ্যানজাইম কম থাকলে স্বাস্থ্যশিক্ষা দিতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ব থেকে ডায়াবেটিস দূর হবে।

সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান প্রশাসন যদি স্টুল অ্যালকালাইন ফসফেট টেস্টের মাধ্যমে দেশের মানুষের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে পারে তবে দেশে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করতে পারবে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের ডায়াবেটিসের আগাম ও পরবর্তী পর্যায় যদি প্রকাশ করা যায় তবে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সিম্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম।

সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ হাসনাত। সঞ্চালনা করেন ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তাহনিয়া হক।