মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রামে নির্যাতিত জাতিগুলোর মুখপাত্র। তাঁর নেতৃত্বে শোষিত, শৃঙ্খলিত বাঙালি জাতির ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার দর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হলেও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী, পাকিস্তানপ্রেমী ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। এর মাধ্যমে মূলত আলোকাভিসারী এক জাতিকে পশ্চাৎপদতার অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে ফজলুল হক চেয়ারম্যান স্মৃতি গণপাঠাগারের উদ্যোগে 'আমরা করবো জয়'-এর সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে এক লাখ টাকার 'মুজিব-ইন্দিরা স্মৃতি প্রণোদনা' প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঠাগারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, পিএইচপি ফ্যামেলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, ঢাবি অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন প্রমুখ। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ শওকত আল-আমিন, রাজনীতিবিদ সাজ্জাদ উদ্দিন, লেখক ও ব্যাংকার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, নির্মূল কমিটির নেতা হাবিব উল্যাহ চৌধুরী ভাস্কর প্রমুখ। আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও গবেষক ডালিয়া বসু সাহা।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র, চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্র, সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান, পান্থজন, জননেতা রহমতউল্যা চৌধুরী ফাউন্ডেশন, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, ইহাম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ডব্লিউএসও ফাউন্ডেশন এবং শৈশব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।