রোববার সকালে ঢাকা আসছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। আর এ সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করতে কিছু পক্ষ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে মানবাধিকার নিয়ে রাজনীতিকরণ কখনই জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রচারে সহযোগিতা করে না, ফলে আন্তরিক সংলাপ ও সহযোগিতাই এর অন্যতম পথ। সরকারের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করতে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সফরকে সামনে রেখে, জনগণকে বিভ্রান্ত করে, রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু পক্ষ যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের দায়িত্বশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনারের সঙ্গে গঠনমূলক আলেচনা আশা করছে বাংলাদেশ। যেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রচেষ্টাগুলোর সঙ্গে আরও গভীর যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষা করতে পারে। প্রতিবন্ধকতাগুলো থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্জনগুলো নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ প্রশংসা পাওয়ার আশা করছে ঢাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৪ থেকে ১৭ই আগস্ট বাংলাদেশ সফর করবেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনারের এটি প্রথম বাংলাদেশ সফর। সরকার তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে। মানবাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আইনি কাঠামো হালনাগাদ, সচেতনা সৃষ্টি এবং বাস্তবায়ন সংস্থাগুলোকে সংবেদনশীল করার মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার রক্ষা ও প্রচারে সরকারের প্রচেষ্টা ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য এ সফরটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মহামারি ও অন্যান্য সংকটের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো প্রতিবন্ধকতাগুলো যথাযথ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। মিশেল ব্যাচেলেট মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনগুলো সম্পর্কে অবগত। সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করা ছাড়াও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ সফরে বৈঠক করবেন মিশেল ব্যাচেলেট। আগামী ১৫ই আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার ও উন্নয়নের বিস্ময়কর যাত্রায় মিশেল ব্যাচেলেট নিজে সাক্ষি হবেন বলে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। চলমান মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশে একজনও অনাহারে মারা যায়নি। জনগণের মৌলিক মানবাধিকারগুলো বিশেষ করে খাদ্য, বাসস্থান এবং উন্নয়নের অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। 

এটিও উল্লেখ করা জরুরি যে বাংলাদেশে বিদ্যালয়গুলোতে, প্রার্থনা স্থলগুলোতে এবং বিপণীবিতানগুলোতে কেউ নিহত হয়নি।