সোনাগাজীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আমির হোসেন খোকন নামে যুবলীগের এক নেতাকে হাতুড়িপেটা করছে প্রতিপক্ষ। 

শনিবার দুপুরে সোনাগাজী পৌর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন যুবলীগ নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোকন রেফ্রিজারেটরে এই ঘটনা ঘটে। হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত খোকন ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ৭/৮ জন যুবক খোকনের দোকানে ঢুকে প্রথমে তাকে পেটাতে পেটাতে বাইরে নিয়ে আসে। পরে হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আহতের ভাই ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সোহাগ জানান, চরচান্দিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি খোকন রাজনীতির পাশাপাশি সোনাগাজী বাসস্ট্যান্ডে খোকন রেফ্রিজারেটর নামে দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী গত কয়েকদিন যাবৎ তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে নিরাপত্তা চেয়ে তিনি শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। 

এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার দুপুর ১টার দিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেন,  আব্দুল মোতালেব রবিন, মো. রাকিব, আবু সায়েদ রবিন, মো. জয় ও মামুনের নেতৃত্বে ১০-১২জন সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে প্রথমে বাঁশের লাঠি ও পরে হাতুড়িপেটায় গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

এই ব্যাপারে পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, গত কয়েক মাস আগে রাস্তার উপর ইট রাখা নিয়ে তর্ক বিতর্কের জেরে পান্ডব বাড়ির আবু সায়েদ রবিনকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় আহত রবিনের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত খোকন জামিন পেয়ে রবিনের পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। আমরা একাধিকবার উভয়পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে  বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হই। হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তারপরও তারা আমাকে ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করছে। 

এদিকে রাতে আহত যুবলীগ নেতার ভাই দেলোয়ার হোসেন সোহাগ বাদী হয়ে আব্দুল মোতালেব রবিন, রাকিব, রবিন,  জয়, বিজয় ও মামুনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ খালেদ হোসেন দাইয়্যান বলেন, আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যক্তির ভাই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।