বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশ এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রতিদিন চারদিকে অশনি সংকেত আর ঘনঘোর অন্ধকার নেমে আসছে। সর্বত্রই অস্বস্তি-অস্থিরতা। ক্ষমতাসীনদের বিশৃঙ্খলা ও অপকীর্তির শেষ নেই। এই অনির্বাচিত সরকার পরিকল্পিতভাবে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো খালি হয়ে গেছে। রিজার্ভ তলানীতে ঠেকেছে।

রোববার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, গত ১৩ বছরে বেপরোয়া দুর্নীতিযজ্ঞের কারণে দেশ এখন দেউলিয়া ঘোষণার অপেক্ষায়। কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা দেশকে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার সঙ্গে তুলনা করে গলাবাজি করতেন। দেশকে ঋণের ফাঁদে ডুবিয়ে এখন তারা ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেছেন। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ হারিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে নিজের সন্তান বিক্রি করে দিচ্ছে মানুষ। খাগড়াছড়ির পারুল চাকমা তার একমাত্র সন্তানকে মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাজারে তুলেছে। পৃথিবীতে মনে হয় এর চেয়ে সস্তা আর কিছুই হতে পারে না। এত সস্তা মানুষের জীবন, তাও বিক্রি করতে পারছে না। ইতিহাসের অমানবিক দাসপ্রথা বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এমন ঘনীভূত হয়েছে, নিরূপায় হয়ে ছিনতাই করতে নেমে পড়েছে কেউ কেউ। ডিমের ট্রাকও ছিনতাই হচ্ছে। ভর্তা আর কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাত খাওয়ার সামর্থ হারাচ্ছে মানুষ। বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে মানুষ। সব খরচ কমিয়ে দিয়েছে। পুঁজি ভেঙে ও ঋণ করে সংসার চালাচ্ছে। নিদারুণ কষ্টে মানুষ জীবনযাপন করছে।

বিএনপি নেতা বলেন, সরকারপ্রধান প্রতিদিন কৃচ্ছতা সাধনের জন্য দেশবাসীকে উপদেশ বাণী দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘বিলাসিতা নয়, আদর্শ ধারণ করাই প্রকৃত জীবন। আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, অপচয় বন্ধ করতে হবে।’ অথচ জনগণের সামনে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীদের বিলাসবহুল জীবনের চিত্র বিকটভাবে উন্মোচিত হচ্ছে। ১৮ জুলাই সুইজারল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড সুইস তাদের দেশসেরা বিলাসবহুল বাথ ও কীচেন সামগ্রী গণভবনের জন্য অর্ডার করায় শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছে। সেখানে কেবল একটি কমোডের দাম দেখানো হয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা। গত শুক্রবার ছুটির দিনে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিল গাড়ির বিশাল বহর। তিনি নিজেই আবার জ্বালানি সংকটে কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারী গাড়ি কম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। দেশে চলছে জ্বালানি সংকট, আর আপনি নিজেই এভাবে গাড়ির তেল পুড়িয়ে পৈতৃকভিটা পরিদর্শন করছেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘আগস্ট মাসটা যাইতে দেন, তারপর টের পাবেন কত ধানে কত চাল।’ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা রাজপথে এখনও নামিনি, আগামী মাসে পরিপূর্ণভাবে নামব। রাজপথে নামলে বিএনপি পালানোর জায়গা খুঁজে পাবে না। তাদের কীভাবে গর্তে ঢোকাতে হয় সেই ওষুধ আমাদের জানা আছে। প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হবে।’

তাদের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা কতটা হিংস্র শাপদীয় চরিত্রের। লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা, গানপাউডার ছিটিয়ে বাসযাত্রী হত্যা, গুম যাদের অভ্যাস, তাদের মুখেই কেবল এই ধরনের ফ্যাসিবাদী হুংকার শোনা যায়। যদি মুরোদ থাকে পুলিশ লীগের বেষ্টনী ছেড়ে রাজপথে নামেন। জনগণের উত্তাল প্রতিরোধে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পাবেন না।