মানিকগঞ্জে গৃহবধূ আম্বিয়া বেগমকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে তার স্বামী মো. আলমকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়েই দীর্ঘ ২১ বছর পলাতক ছিলেন তিনি। পলাতক এই আসামিকে গত শনিবার রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

রোববার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ২০০১ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার তিন মাসের মাথায় যৌতুকের জেরে স্ত্রী আম্বিয়াকে পুড়িয়ে হত্যা করেন আলম। এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে নাম পরিবর্তন করে জাতীয় পরিচয়পত্র নেন। সেখানে মা-বাবার নামও পরিবর্তন করেন। এরপর দ্বিতীয় বিয়েও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আম্বিয়ার বাবার বাড়িতে এসে তাকে মারধর করেন আলম। এক পর্যায়ে পেট্টোল ঢেলে স্ত্রীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আম্বিয়ার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মকবুল হোসেন বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে এ মামলায় আলমকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত

র‌্যাব জানায়, ঘটনার ৫ বছর পর ঢাকার বংশাল এলাকায় নিজের নাম-ঠিকানা গোপন রেখে করেন দ্বিতীয় বিয়ে। এরপর থেকেই ভিন্ন পরিচয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন আলম। এ ঘটনার পর আর কখনোই মানিকগঞ্জের নিজ বাড়িতে যাননি তিনি।