বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) জামায়াত-শিবির-মৌলবাদী গোষ্ঠী বীজ বপন করেছে বলে মনে করছেন বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। একইসঙ্গে বুয়েটের হলে হলে শিবিরের রুম, আস্তানা এবং মসজিদসমুহে প্রতি বৃহস্পতিবার পাঠচক্রের আয়োজন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে মগজধোলাই করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সোমবার দুপুরে বুয়েটের শহীদ মিনারের পাশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব বলেন তারা।

বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিব আহমেদ মুরাদ বলেন, জামায়াত-শিবির ও মৌলবাদী গোষ্ঠী এখানে আস্তানা গড়ে তুলেছে। আমরা থাকতে এই আস্তানা ফুলে ফলে গড়ে উঠতে দিবো না। গত ১৩ তারিখ আমাদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা খুবই হতাশাজনক। তারা কখনো সাধারণ শিক্ষার্থী নয়৷ তারা সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে বুয়েটকে ধ্বংসের দিকে ঠেল দিতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মৌলবাদী গোষ্ঠীর কর্ম নিয়ে সচেতন হয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা৷

এ সময় সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক খায়রুল বাশার বক্তব্য রাখেন।

মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমরা বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। একইসঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী। যার জন্ম না হলে এই দেশ আমরা পেতাম না, তার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা যেকোনো ধরণের প্রোগ্রাম, যেকোনো জায়গায় করার অধিকার আছে। কেউ যদি বাধা দেয় তাহলে আমাদের বুঝে নিতে হবে. তারা জামায়াত-শিবির ছাড়া কেউ নয়। যারা বাংলাদেশ চায় না, এই দেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়, তারাই বাংলাদেশকে অস্বীকার করে; জাতির পিতাকে অস্বীকার করে। আমরা যখন প্রোগ্রাম করি, তখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে মাঠে নামানো হয়।

'১৩ তারিখের প্রোগ্রামে তারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ হিসেবে নয়, সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয়ে প্রোগ্রামের আয়োজনের অনুমতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন'- এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে যেমন গর্ববোধ করি, তেমনি ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবেও গর্ববোধ করি। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে প্রোগ্রামের শিডিউল নিয়েছি।

এ সময় তারা 'শিবিরের আস্তানা, এই বুয়েটে হবে না', 'একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর', 'শিবিরের বিরুদ্ধে, লড়াই হবে একসাথে', 'এক নেতার এক দেশ, শেখ মুজিবের বাংলাদেশ'সহ নানা স্লোগান দেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদলও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইফ বাবু, সৈয়দ আরিফ মাজহারুল ইসলাম শামীম, সাংগাঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ, ধর্ম সম্পাদক তুহিন রেজা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা শাহেদ খান, আরিফ হোসেন রিফাত, ফয়সাল মাহমুদ,ফারহানা, রাহীম সরকারসহ প্রায় অর্ধশত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।