জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বিচারের মুখোমুখি করতে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নাটকীয় পরিবর্তন’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

তিনি খুনী রাশেদকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার জন্য মার্কিন সরকারের আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন।

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিকে নির্বাসন: বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ইস্যু’ শীর্ষক সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ ক্যারোলিনা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এবিএম নাসির।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনির যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত অবস্থান দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনক। তাই রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যর্পণ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নাটকীয় পরিবর্তন’ হতে পারে।

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে খুনি রাশেদকে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সেমিনার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বঙ্গবন্ধুর জঘন্য খুনিকে প্রত্যর্পণের জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে মার্কিন জনগণ এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রবাসীদের মধ্যে বৃহত্তর সচেতনতা তৈরি করা।

ডেপুটি চিফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার সেমিনারে সঞ্চালনা করেন। বিশিষ্ট অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, বিশিষ্ট কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান, প্রখ্যাত সংবাদ পাঠক সরকার কবির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন চৌধুরী, দূতাবাসের কাউন্সেলর আরিফা রহমান রুমা এবং মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল আজম আজাদ প্রমুখ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।