ঢাকার ইস্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী আঁচল সাহাকে (২২) চোখের জলে শেষ বিদায় জানালো উল্লাপাড়ার মানুষ। সোমবার রাতে আঁচলের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয় ঘোষগাঁতী মহাশ্মশানে। উল্লাপাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার দীপক কুমার সাহা ও নীলা রানী সাহা দম্পতির মেয়ে আঁচল সাহার মরদেহ রোববার রাতে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি মেস থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। রাতেই ঢাকার ভাটারা থানা পুলিশ আঁচলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয়। এই থানায় এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়।

আঁচল সাহা উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি ও উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। দামী একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে অভিমানে আঁচল আত্মহত্যা করে থাকতে পারে  বলে তার পরিবার ধারণা করছে। এ দিকে আঁচলের মা স্কুল শিক্ষিকা নীলা রানী দু’দিন ধরে একমাত্র কন্যার মৃত্যুশোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। কোনো কথাই বলছেন না তিনি।

আঁচলের মামা পলাশ সাহা জানান, আঁচল তার অপর দুই সহপাঠীর সঙ্গে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় একটি মেসে থেকে পড়ালেখা করতেন। তার যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবা দীপক কুমার তার মাকে ছেড়ে ভারতে চলে যান। তারপর থেকে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই নীলার। মামার বাড়ির সহযোগিতায় অনেক কষ্টে নীলা মেয়েকে বড় করেন। কয়েক বছর ধরে নীলা স্থানীয় শহীদ ক্যাডেট স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন।

পলাশ সাহা আরও জানান, কিছুদিন আগে আঁচল তার মোবাইল ফোনটি হারিয়ে ফেলে। মায়ের কাছে আবারও একটি দামী মোবাইল কিনে দেওয়ার আবদার করেন। কিন্তু অস্বচ্ছল মা আপাতত মোবাইল কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ২-৩ দিন ধরে আঁচলের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এজন্য আঁচল দু'দিন না খেয়ে ছিলেন। এই ঘটনায় অভিমান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তার পরিবারের ধারণা।

উল্লাপাড়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক শামীম হাসান, ইউসুফ আলী মন্টু ও জিতেন বিশ্বাস জানান, আঁচল সাহা কণ্ঠ ও নৃত্যশিল্পী ছিলেন। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি ও বির্তক প্রতিযোগিতায়ও ছিল তার অসাধারণ কৃতিত্ব। তার অকালে চলে যাওয়ায় এখানকার সাংস্কৃতিক অঙ্গন অনেকটাই শূন্য হয়ে পড়লো। 

সোমবার সন্ধ্যায় আঁচলের মরদেহ ঢাকা থেকে তার ঝিকিড়ার বাড়িতে পৌঁছে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। চোখের জলে শেষ বিদায় জানান স্বজন, সহপাঠি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী, সুধীজনেরা।

এদিকে ঢাকার ভাটারা থানার ওসি সাজেদুর রহমান সমকালকে বলেন, আঁচল ও তার দুই বান্ধবী একটি কক্ষে থাকতেন। ঘটনার সময় অন্য দু'জন বাসার বাইরে ছিলেন। রোববার রাত ১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।