পুরান ঢাকার লালবাগে অগ্নিকাণ্ডে ছয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিচার নিশ্চিতকরণে সরকার ও প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম। 

একইসঙ্গে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়াসহ নিহত ও আহতদের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (লস অব ইয়ার আর্নিং) অনুসরণ করে ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনেরও দাবি জানানো হয়।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফোরামের আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার দুপুরে চকবাজারের কামালবাগের দেবীদাস ঘাট এলাকায় একটি চারতলা ভবনে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে ভেতরে আটকা পড়া ছয়জন মারা যান। নিহত সবাই ওই ভবনের নিচে একটি রেস্টুরেন্টের (বরিশাল হোটেল) কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তারা রেস্টুরেন্টের ওপরের পাটাতনে ঘুমিয়ে ছিলেন।

আরও বলা হয়, কয়েকদিন আগে আরমানিটোলার ৯/১১ নম্বর আর্মানিয়ান স্ট্রিট হোল্ডিংয়ের হাজী মুসা ম্যানশন নামক ভবনটির নিচতলায় অবস্থিত রাসায়নিক দ্রব্যের দোকান ও গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীসহ পাঁচজন নিহত এবং ২২ জন আহত হন। এ ছাড়া ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীর নবাব কাটরায় রাসায়নিকের গুদামে লাগা আগুনে ১২৪ জন মানুষ পুড়ে অঙ্গার হন। এরপর ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারায় ৭১ জন।

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম মনে করছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও যথাযথ সুরক্ষা, যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা না রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাবে একের পর এক এ ধরনের অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা ঘটছে, যার ফলে বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।