সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অবৈধ অর্থের তথ্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের সরকার তথ্য বিনিময় নিয়ে একটি সমঝোতায় যাবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সুইজারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানান পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। 

এ সময় রাশিয়া থেকে তেল কেনার প্রসঙ্গ ও ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি কূটনীতিকের মাদক রাখার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

হাইকোর্টের প্রশ্নের জবাব নিয়ে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সুইস রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক দায়মুক্তি রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের সংশ্নিষ্টরা রয়েছেন, তাদের নিয়ে আগামীতে বৈঠক করা হবে। যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, তা অবসান করার চেষ্টা করব। সুইস রাষ্ট্রদূতের কাছে হয়তো সম্পূর্ণ তথ্য নেই, আমাদের কাছেও হয়তো সম্পূর্ণ তথ্য নেই। সুতরাং দুই দেশের সরকারের মধ্যে যদি একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যায় সেটি চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্টস ইউনিট ও সুইজারল্যান্ডের এ সম্পর্কীত কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। সুইস রাষ্ট্রদূত হয়তো তা অবগত নন। ফলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ছে। আমরা ঢাকায় সুইস দূতাবাস ও বার্নে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছি।

সুইস রাষ্ট্রদূত একটি চুক্তির কথা বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন, সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে একটি প্রস্তাব এসেছে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। ভুল বোঝাবুঝি যাতে না হয়, যে জন্য তথ্যের বিনিময় সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব।

রাশিয়া থেকে তেল আনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ভারতের যে সক্ষমতা রয়েছে রাশিয়ার অপরিশোধীত তেল পরিশোধন করার, সেই সক্ষমতা আমরা যদি করে নিতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরাও আনতে পারব, তবে সেটি সময়সাপেক্ষ। 

রাশিয়া থেকে তেল আনতে গেলে কূটনৈতিকভাবে ঢাকা কোনো সমস্যায় পড়বে কিনা, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, অনেকে তো নিচ্ছে। তৃতীয় দেশ থেকে অনেকে নেয়। 

আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো দেশের সঙ্গে তো ভালো সম্পর্ক আছে। সৌদি রাষ্ট্রদূতও একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, ওরাও তেল দিতে প্রস্তুত রয়েছে। কাতারের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো, সেখান থেকে এলএনজি নিয়ে থাকি। সুতরাং আমাদের বিভিন্ন স্থান রয়েছে এগুলো সংগ্রহ করার।

ইরান থেকে তেল আনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সেটি একটা সম্ভাবনা। ইরানের ওপর একটা নিষেধাজ্ঞা আছে। ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর একটা দেনদরবার চলছে। সেটা যদি একটা ইতিবাচক ফল নিয়ে আসে, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞাগুলো হয়তো দ্রুত তুলে নেওয়া হবে। তখন আরেকটি সম্ভবনা হবে। ইরানের যে তেল তা পরিশোধন কতখানি আমরা করতে পারি সেটাও একটি বিষয়।

ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মাদক রাখার অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, প্রাথমিক একটি তদন্ত হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব এটি বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।