যুক্তরাজ্য শুল্ক ছাড় দিয়ে নতুন বাণিজ্য নীতি ঘোষণা করেছে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬৫টি উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে। এ নতুন নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যে অস্ত্র ছাড়া সকল পণ্য আরও সহজে শুল্কমুক্ত রপ্তানি করতে পারবে।

তবে গুরুতর মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার লঙ্ঘন হলে এ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও নীতিতে বলা রয়েছে। ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, যুক্তরাজ্য ১৬ই আগস্ট 'ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস)'-এর ঘোষণা দিয়েছে। এটি বাংলাদেশসহ ৬৫টি উন্নয়নশীল দেশকে শুল্কহ্রাস এবং সহজতর রপ্তানি সুবিধা দেবে। ডিসিটিএস বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উদার বাণিজ্য সুবিধা দেবে যা বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে তরান্বিত করবে। এই নতুন নীতি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যেকার দীর্ঘমেয়াদী ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাজ্যের যে অঙ্গীকার, তারই প্রতিফলন।

ডিসিটিএস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। এর মাধ্যমে শুল্কমুক্ত মর্যাদা না হারিয়েই বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের কাঁচামাল ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। এই নীতির আওতায় অস্ত্র ছাড়া বাংলাদেশ অন্য সব পণ্য যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা অব্যাহতভাবে পাবে। 

ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেছেন, ‘ডিসিটিএস বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনৈতিক বিকাশ ও সমৃদ্ধকরণে বাণিজ্য এবং বেসরকারি খাতের শক্তিকে কাজে লাগাবে। যুক্তরাজ্য বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানির বাজার। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়ে থাকে। এই নতুন নীতির অধীনে বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে আরও সহজ প্রবেশাধিকার পাবে। এমনকি বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তীর্ণ হবার পরেও তৈরি পোশাকসহ ৯৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। আমরা আশা রাখি যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতির ফলে উভয় দেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি বাড়বে এবং বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য থেকে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারবে।'

ডিসিটিএস বিশ্ব অর্থনীতিতে উন্নয়নশীল দেশসমূহের সক্রিয় অংশগ্রহণে এবং শক্তিশালী বিনিয়োগ অংশীদার তৈরি করতে অবদান রাখবে। এই নীতিতে মানবাধিকার এবং শ্রম অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের যে অঙ্গীকার তা প্রতিফলিত হয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়াও দুর্নীতি বিরোধী, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক কনভেনশনগুলিতে যুক্তরাজ্যের যে অঙ্গীকার রয়েছে তা ডিসিটিএস সমর্থন করবে। নুতন এ নীতি ইউকে জেনারেলাইজড স্কিম অফ প্রেফারেন্সে (জিএসপি) ২০২৩ সালের প্রথম দিকে প্রতিস্থাপন করবে।