মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য ধৈর্য ধরতে বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় রোহিঙ্গাদের ২০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন।

সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যান মিশেল ব্যাচেলেট। গতকাল সকালে উখিয়ার ৪ নম্বর ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় 'আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস' সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি নিয়ে একটি চিঠি তাঁর হাতে দেন রোহিঙ্গা নারীনেত্রী জামালিদা বেগম। এ ছাড়া সকালে ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন কেন্দ্রে রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ক্যাম্পে পৌঁছে তিনি রোহিঙ্গা নারী, যুব প্রতিনিধি ও ইমামদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অবগত আছে এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত, অতিরিক্ত কমিশনার মো. খালিদ হোসেন এবং আইএসসিজিসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা।

খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, সকালে টেকনাফের নয়াপাড়ায় নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। দুপুর দেড়টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে উখিয়া ত্যাগ করেন তিনি। স্থানীয় কোনো গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে তিনি কথা বলেননি।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ দলের আবদুল আজিজ বলেন, 'আমরা কেমন আছি তা জানতে চান মিশেল ব্যাচেলেট। তাঁকে বলেছি, মিয়ানমারের চাইতে হাজার গুণ ভালো আছি। মিয়ানমারে সেনারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। কিন্তু এই দেশ আমাদের খাবার থেকে শুরু করে যাবতীয় সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করে যাচ্ছে। খেলাধুলার পাশাপাশি ক্যাম্পে খুন হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তিনি (মিশেল ব্যাচেলেট) অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।'

আবদুল আজিজ জানান, ক্যাম্পে মিয়ানমারের শিক্ষাক্রম চালু না থাকায় তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। অনেক কিশোর-কিশোরী বেকার। ক্যাম্পে যাতে মিয়ানমারের শিক্ষাক্রম চালু হয়, সে ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের হাতে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিব উল্লাহ খুন হওয়ার বিষয়ে মিশেল ব্যাচেলেট জানতে চাইলে আজিজ জানান, মুহিব উল্লাহ না থাকায় রোহিঙ্গাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তেমন আর কেউ চিন্তা করছে না। মুহিব উল্লাহ না থাকায় আগের মতো রোহিঙ্গারা বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর পায় না।

মিশেল ব্যাচেলেট রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও নিপীড়নের কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন ইমামদের প্রতিনিধি উখিয়া ক্যাম্পের সৈয়দ হোসেন। তিনি বলেন, 'আমি বলেছি, মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। তবে আবার সেখানে গিয়ে নির্যাতনের মুখে যেন পড়তে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা অধিকার নিয়ে নিজ দেশ ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়েছি। এ সময় জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বিষয়গুলো সবখানে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।'