নতুন শিক্ষাবর্ষে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হয়েছেন দিগন্ত বিশ্বাস। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে তিনি পেয়েছেন ৮২.২৫ নম্বর। তিনি জানালেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা তার। মায়ের অনুপ্রেরণাই ছিল তার সাফল্যের প্রথম সোপান।

মঙ্গলবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটে ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সমকালকে তিনি বলেন, রেজাল্ট পাওয়ার পর অনেকটা অবাক হয়েছি। পরীক্ষা ভালো দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রথম হব এটি ভাবিনি। 

২০০৩ সালে দিগন্তের জন্ম। বাবা মিলন কুমার বিশ্বাস ও মা অর্চনা রানী সরকার। বেড়ে উঠেন দিনাজপুরের রাজাবাসর গ্রামে। পার্বতীপুরের জ্ঞানাংপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন দিনাজপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাসে। একে একে সুনাম ছড়াতে থাকেন উপজেলা-জেলাতেও। 

তবে শৈশবটা মোটেও সুখকর ছিল না দিগন্ত বিশ্বাসের। মাত্র ৫ বছর বয়সে ২০০৮ সালে বাবাকে হারান। মায়ের স্নেহে আর বড়-বোনের ভালোবাসায় বেড়ে উঠেছেন তিনি। তিনি বলেন, আজকে আমার এই অর্জনের অনুপ্রেরণা আমার মা। মা আমার সব কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আর বড় ভাই আর বোন সব সময় পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছেন।

দিগন্ত তার পরিবারের তৃতীয় ও সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান। তার বাবা ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মাও প্রাথমিকের শিক্ষিকা। বড় ভাই রাজশাহী প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলে চাকরি করছেন এবং বোন একজন আইনজীবী। 

তবে এ পর্যন্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করেননি দিগন্ত। কথা বলার জরুরি প্রয়োজনে ফিচার ফোন ব্যবহার করতেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ইউনিটে ১৫১ তম হওয়ার খবর শোনার পর তার বড় ভাই একটি স্মার্টফোন উপহার দেন। 

নবীনদের পরামর্শ দিয়ে দিগন্ত বলেন, যারা ভালো ফল করতে চায় তাদের অবশ্যই প্রথমত সৃষ্টিকর্তার উপর ভরাসা রাখতে হবে। এর পর নিয়ম করে পড়াশোনা করতে হবে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকা। যেন সময়টা কাজে লাগানো যায়।

দিগন্তের মা অর্চনা রানী সরকার বলেন, আমি আজ খুব খুশি। আমি যখন শুনি দিগন্ত প্রথম হয়েছে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি।