চা বাগানের অচলাবস্থার নিরসন হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যেতে অনড় অবস্থানে তাঁরা। গতকাল মঙ্গলবার থেকে চা বাগানগুলোতে ফের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এদিকে চা শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে গতকাল শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বৈঠক হলেও তাতে কোনো সমঝোতা হয়নি। আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকায় শ্রম অধিদপ্তরে চা বাগান মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে দাবি-দাওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গতকাল শ্রমিকদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলাম। এদিকে চা শ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ব্যতীত কর্মবিরতি প্রত্যাহার না করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তাঁরা জানান, আলোচনা ও কর্মবিরতি একযোগে চলবে।

বৈঠকে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী, চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিক নেতারা মজুরি ৩০০ টাকায় উন্নীত করা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই কর্মসূচি স্থগিত না করার কথা জানিয়ে দেন।
মজুরি ৩০০ টাকায় উন্নীত করার দাবিতে দেশের ১৬৭টি চা বাগানের শ্রমিকরা ধর্মঘট, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। দু'দিন স্থগিত রাখার পর গতকাল থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করেন তাঁরা।
বৈঠক শেষে মহাপরিচালক খালেদ সাংবাদিকদের জানান, কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করার অনুরোধ করা হলে শ্রমিক নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

চা বাগান প্লান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি জিএম শিবলী জানান, কর্মবিরতির ফলে প্রতিদিন দেশের সব চা বাগানে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল সমকালকে বলেন, ৩০০ টাকা মজুরি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চা শ্রমিকদের কর্মসূচি পালন চলবে।

জুড়ীতে শ্রমিক-মালিকপক্ষ উত্তেজনা :জুড়ীর ধামাই চা বাগানে ধর্মঘটের মধ্যে মালিকপক্ষের লোকজন কারখানা চালু করায় শ্রমিকদের সঙ্গে উত্তেজনা দেখা যায়। মালিকপক্ষের লোকজনকে ঘণ্টাখানেক তালাবদ্ধ করে রাখেন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা গিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে উত্তেজনা নিরসন করেন। বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি যাদব রুদ্রপাল বলেন, তাঁদের পেটে লাথি দিয়ে ম্যানেজার কীভাবে কারখানা চালু করেন? দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
শাবিতে মানববন্ধন :চা শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে তাঁরা এই দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

যৌক্তিক মজুরি চায় টিআইবি :চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঠেকাতে হুমকির বদলে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামান্য কিছু সুবিধাসহ দৈনিক মাত্র ১২০ টাকা মজুরিতে আট ঘণ্টা, কখনও আরও বেশি সময় কাজ করানো বৈষম্যমূলক ও সংবিধান পরিপন্থি।

এতে বলা হয়, চলমান সমস্যা সমাধানে বাগান মালিকদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সরকারকে চা শ্রমিকদের দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করে ন্যায্য ও মানবিক উদ্যোগ নিতে হবে।


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জমান বলেন, বস্তুনিষ্ঠ গবেষণাভিত্তিক বিশ্নেষণ অনুযায়ী এ কথা বলা যায়, দেশের অন্য যে কোনো খাতের তুলনায় চা শ্রমিকদের মজুরি সর্বনিম্ন ও বৈষম্যমূলক। তাই সমতাভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে চা শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন সমকাল প্রতিবেদক, ব্যুরো ও সংশ্নিষ্ট প্রতিনিধিরা


বিষয় : চা শ্রমিকরা অনড়

মন্তব্য করুন