আজ ১৭ আগস্ট। ২০০৫ সালের এই দিনে মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে জঙ্গি উত্থানের জানান দেয় জামাআ'তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এই দিন বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট, জেলা আদালত, সরকারি স্থাপনাসহ প্রায় ৫০০ স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে দু'জন বিচারক নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। চাঞ্চল্যকর এ হামলার পর দায়ের করা ১৬২টি মামলার মধ্যে ৪১টির বিচার শেষ হয়নি এখনও। সাক্ষীদের খুঁজে না পাওয়ার কারণে এসব মামলার বিচার থমকে আছে।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের মামলার নথিপত্রে উল্লিখিত ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তারও পরিবর্তন হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এখন যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদেরও সাক্ষী হাজির করায় উদাসীনতা রয়েছে। এ জন্যই বিচারে গতি নেই।

এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সমকালকে বলেন, এ ধরনের মামলা বিচারের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল আছে। মামলা নিষ্পত্তিতে কোনো সমস্যা চিহ্নিত হলে সেল থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিরিজ বোমা হামলার মামলাসহ সব মামলার বিচার অবশ্যই শেষ করা হবে।

সিরিজ বোমা হামলায় ঝালকাঠিতে দুই বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদ নিহত হন। সংগঠনটি বিভিন্ন স্থানে সিনেমা হল, যাত্রামঞ্চ, মাজারে বোমা হামলা চালিয়ে আসছিল। সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও চার্জশিটভুক্ত জঙ্গিদের অনেকে গ্রেপ্তার হয়নি।

পুলিশ সদরদপ্তর ও সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ঢাকাসহ ৬৩ জেলায় ১৬২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা খারিজ হয়। পুলিশ ১৪৩টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে এক হাজার ১৩১ জনকে। এদের মধ্যে এক হাজার ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ১৬টি মামলায় সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, চার্জশিট দেওয়া ১৪৩ মামলার মধ্যে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১০২টি মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হয়েছে। এর মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চুয়াডাঙ্গায় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি শায়খুল ইসলাম সাইফুল ওরফে রাকিবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে জেএমবিপ্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ সাতজনের ফাঁসির রায় দেন বিচারিক আদালত। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, খালেদ সাইফুল্লাহ, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হাসান আল মামুনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় এ পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ৯ আসামির। ঢাকার আদালতে বর্তমানে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু সমকালকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে পারছেন না। সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী নন। আদালত যদি তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিচার সম্পন্ন করেন, তাহলে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে।
সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে না পারার বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) মো. হায়দার আলী খান সমকালকে বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, সাক্ষী স্থায়ী ঠিকানায় নেই বা সাক্ষী মারা গেছেন। বিষয়টি জানানো হলে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।