কারাকোরাম রেঞ্জে অবস্থিত কেটু পর্বত ৮৬১১ মিটার উঁচু এবং পর্বতারোহীদের জন্য এভারেস্টের চেয়েও দুর্গম বলে পরিচিত। বিপদসঙ্কুল পরিবেশ, প্রায় পিরামিড-সদৃশ ঢাল এবং অনিশ্চিত আবহাওয়ার এই ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’-এর চূড়ায় পা রাখতে পেরেছেন মাত্র চারশ' পর্বতারোহী। ১৯৫৪ সালের পর থেকে কেটু-তে আরোহণ করা পর্বতারোহী নারী মাত্র ৪০ জন। এদের মধ্যে একজন হলেন বাংলাদেশের ওয়াসফিয়া নাজরীন।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু ও বিপদসঙ্কুল পর্বতশৃঙ্গ কেটু জয় করার পর বুধবার দেশে ফিরেছেন তিনি। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেন ৩৯ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী। তার এ অভিযানে স্পন্সর ছিল রেনাটা লিমিটেড।

দেশে পৌঁছানোর পর বুধবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার শেরাটনে সংবাদ সম্মেলনে দুই মাসব্যাপী কারাকোরাম অভিযানের রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে কথা বলেন ওয়াসফিয়া। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্বতারোহণ এবং ট্রেকিং করার অনুমতি পেয়েছেন।

ওয়াসফিয়া বলেন, বাংলাদেশ যখন ৪০-এ পা দেয়, তখন আমি সেভেন সামিট জয় করার যাত্রা শুরু করি। দেশের ৫০ বছরে আমি চেয়েছিলাম কেটু জয় করতে। এ জন্য আমি ১০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করেছি। ডেথ-জোন (অক্সিজেনের ভয়াবহ স্বল্পতার কারণে পর্বতারোহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ) পর্বতসমূহ আরোহণ করতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। আর এ সাফল্যের জন্য আমি আমার দলের সবারপ্রতি কৃতজ্ঞ। আমার এ দলে যারা ছিলেন তাদের বেশ কয়েকজনকে এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পর্বতারোহী হিসেবে মনে করা হয়। যারা আমার মঙ্গল কামনা করেছেন এবং আমার ওপর ভরসা করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, কেটু আমার আরোহণ করা সবচেয়ে দুর্গম পর্বত, যেখানে বেশ কয়েকবার আমি পাথরে আঘাত পেয়েছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যও আমাদের সহায়তা করেছে। কেটু স্থানীয়ভাবে ‘ছোগোরি’ বা পর্বতের রাজা হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি পদক্ষেপেই সেখানে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। একবারেই কেটু জয় করে ফেরত আসতে পেরেছেন এমন অল্পকিছু পর্বতারোহীর মধ্যে আমরা রয়েছি।

ওয়াসফিয়া নাজরীন ২২ জুলাই তার দলের সঙ্গে কেটু পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন। তার দলের মধ্যে মিংমা তেনজি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা এবং নির্মল পুরজাকে নিয়ে ‘১৪ পিকস’ নামে একটি ডকুমেন্টারি করেছে নেটফ্লিক্স।

ওয়াসফিয়া প্রথম বাঙালি ও বাংলাদেশি, যিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করলেন। তিনি কেটু বিজয়ী প্রথম বাঙালি এবং বাংলাদেশি।