ঈশিকা জান্নাত। নতুন শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তার নম্বর ৮৬.৭৫। এমন খবরে যেন অবিশ্বাস্য ঈশিকা। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার আগ্রহ তার।

মঙ্গলবার গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার সি ইউনিটের ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সমকালকে তিনি বলেন, ‘রেজাল্ট পাওয়ার পর অনেকটা অবাক হয়েছি। পরীক্ষা ভালো দিয়েছিলাম কিন্তু প্রথম হব এটা ভাবিনি। প্রথমে তো বিশ্বাসই করতে পারিনি। সৃষ্টিকর্তা অবাক করে দিয়েছেন।’

২০০২ সালে বাবা আব্দুল হাকিম মোল্লা ও মা হাসিনা বেগমের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন ঈশিকা। কুমিল্লার মোহাম্মদপুর গ্রামে বেড়ে উঠেন তিনি। কুমিল্লার কোর্টবাড়ি বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক শেষে ভর্তি হয়েছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে।

ঈশিকার অনুপ্রেরণার উৎস ছিলো তার বড় বোন জান্নাতুল মুনিয়া। ঈশিকা বলেন, ‘আমার তেমন কোনো ইচ্ছা ছিলো না। তবে আজকে এই সাফল্যের পেছনে আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন সব সময় আমার আপু।’

ঈশিকার বড় বোন পড়তেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যবস্থাপনা বিভাগে’। বর্তমানে তিনি কুমিল্লার কোর্টবাড়ি সোনালী ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার হিসাবে কর্মরত আছেন।

তবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষাতে প্রথম হবার পরেও এই খুশি সেভাবে সাড়া জাগায়নি তার মনকে। তার ইচ্ছা ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু তা আজ অসম্ভব প্রায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না হওয়ায় ভেঙে পড়েন তিনি। তবে প্রথম স্থান করে নিয়েছেন গুচ্ছ ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে তার সিরিয়াল ৮১ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৯ তম স্থান অধিকার করেছেন।

ঈশিকার আগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়া। তবে এটিই চূড়ান্ত নয় বলে জানান তিনি। সমকালকে তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছি এখন। এখনই আমি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। পরিবার ও শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেব।’

নবীনদের পরামর্শ দিয়ে ঈশিকা বলেন, ‘যারা ভালো ফলাফল করতে চায় তাদের অবশ্যই প্রথমত সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরাসা রাখতে হবে। সেই সাথে নিয়ম করে পড়াশোনা করতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন বই না পড়ে যেকোনো একটি সিরিজের বই ভালো মতো পড়তে হবে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফেসবুক থেকে দূরে থাকা। যেন সময়টা ভালো মতো কাজে লাগানো যায়।’

ঈশিকার বাবা আবুল হাকিম মোল্লা সমকালকে বলেন, ‘আমি আজ খুব খুশি। আমি যখন শুনি আমার মেয়ে প্রথম হয়েছে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। ও আজ ভালো করেছে। এটাই আমার বড় পাওয়া।’