চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় গেটম্যান সাদ্দাম হোসেন ও মাইক্রোবাস চালক গোলাম মোস্তফার গাফিলতি পেয়েছে আরেকটি তদন্ত কমিটি। আজ মঙ্গলবার রেলওয়ের চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে গেটম্যান সাদ্দামকে চাকরিচ্যুত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম স্থাপনসহ ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না গেটম্যান সাদ্দাম। তবে তিনি ব্যারিয়ার ফেলেছিলেন। ট্রেন আসার আগে সাদ্দাম গেট ছেড়ে গেলে ব্যারিয়ারটি অন্য কেউ তুলে ফেলেন। এ সময় মাইক্রোবাস চালক গোলাম মোস্তফা ট্রেন আসার সময় ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনে উঠে পড়েন। এতেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।



গত ২৯ জুলাই মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায় লেভের ক্রসিংটিতে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। দুর্ঘটনার পর একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়। মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া কমিটির প্রধান ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রেলপথ) আরমান হোসেন। এর আগে রেলওয়ের বিভাগীয় পর্যায়ে গঠন করা পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ১৬ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানেও দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যান ও মাইক্রোবাস চালককে দায়ী করা হয়েছিল।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এবারের তদন্ত প্রতিবেদনেও ঘুরেফিরে একই ব্যক্তিদের দায়ী করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই দুর্ঘটনার পর গ্রেপ্তার গেটম্যান সাদ্দম হোসেন এখন কারাগারে রয়েছেন। মাইক্রোবাস চালক গোলাম মোস্তফা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।