শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমাদের এ ভূখে সনাতন ধর্মের মানুষ উলুধ্বনি দেয়। এগুলো সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। এই যে বিয়েতে গায়ে হলুদ হয়; এটা মুসলিম বিয়ের কোন অংশ; বলেন? কোথায়? খালি তো কবুল পড়া, সাক্ষ্য দেওয়া দোয়া পড়া। তার বাইরে মুসলিম বিয়েতে আর তো কিছু নেই।

নারীর কথিত ছোট পোশাকের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে সম্প্রতি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষার্থীর মানববন্ধনের তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে যখন রোবোটিক্স আর আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কথা চলছে, তখন কিছু গোষ্ঠী নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য মাপতে ব্যস্ত। তাঁর প্রশ- যাঁরা ইসলামের কথা বলে নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য মাপেন; তাঁরা তাঁদের সন্তানের বিয়েতে গায়ে হলুদের আয়োজন কেন রাখেন? সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোমবার শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইরাব) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় এক ধরনের সাম্প্রদায়িক আচরণ দেখছি। বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছুদিন আগে একবার টিপ নিয়ে এক ধরনের কথা ওঠে। এখন হঠাৎ নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে কথা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়গুলো বাংলাদেশে মীমাংসিত। মীমাংসিত বিষয়গুলোকে কারা কাদের স্বার্থে, কোন স্বার্থে অমীমাংসিত করছে এবং কারা এগুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করছে? তিনি বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে; সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন রোবোটিক্স নিয়ে কথা বলব; আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কথা বলব। এখন তো নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য নিয়ে কথা বলার সময় না। কপালে টিপ আছে কি নেই- এটা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে না।