অবিরাম সাঁতারের বিশ্বরেকর্ড গড়া হলো না বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যের। সিলেট থেকে ২৮১ কিলোমিটার সাঁতরে ভৈরব ফেরিঘাটে পৌঁছে তিনি রেকর্ড গড়তে চেয়েছিলেন। ৩১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে ৮২ কিলোমিটার সাঁতার কেটে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হরিনাপাটি এলাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা চিকিৎসক দল তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্র হরিনাপাটি এলাকায় পৌঁছালে তাঁর শরীর কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাঁকে অনুসরণকারী চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবী ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে ট্রলারে তুলে নেন।

সোমবার সকাল ৬টা ৩৪মিনিটে কিনব্রিজ পয়েন্টসংলগ্ন চাঁদনিঘাট থেকে সাঁতার শুরু করেন তিনি। সঙ্গে থাকা চিকিৎসক দলের প্রধান তপোজিৎ ভট্টাচার্য জানান, ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র পরিশ্রান্ত। তার শরীরে অপিজেন কমে গেছে। ঝুঁকি না নিয়ে অপিজেন দিয়ে তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সৌখিন সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্রের সঙ্গে থাকা সিলেট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল বলেন, ক্ষিতিন্দ্রের শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। শরীরে অপিজেনের পরিমাণ কমেছে। ঠান্ডায় নিউমোনিয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা তাঁকে সাঁতারে অনুমতি দিচ্ছিলেন না। কিন্তু তাদের পরামর্শ অমান্য করেই সাঁতার চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। একসময় তিনি ওঠে আসতে বাধ্য হন।

সিলেট মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক মনোজ কাপালি মিন্টু বলেন, সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি হয়েছে। পানি বেশ ঠাণ্ডা ছিল। অতিরিক্ত ঠান্ডায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যুব কমান্ড নেতা শেখ মোহাম্মদ আলম বলেন, জয় পরাজয় বড় কথা নয়। তিনি যে এ বয়সে দীর্ঘ পথ সাঁতারে পার হওয়ার সাহস করেছেন, তাতেই আমাদের সাহস বেড়েছে।

একাধিক জাতীয় রেকর্ডের মালিক একুশে পদকপ্রাপ্ত এ সাঁতারু ভাঙতে চেয়েছিলেন স্পেনের নাগরিক পাবলু ফার্নান্দেজের আড়াইশ কিলোমিটার সাঁতারের রেকর্ড।