জাতীয় সংসদে নারীর সক্রিয় কার্যকর অংশগ্রহণ ধরে রাখতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি মনে করে, এতে নারী ক্ষমতায়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে ও ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাব অডিটোরিয়ামে নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ‘বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেই নয় শুধু, বিশ্বব্যাপী নারী রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে পিছিয়ে আছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর জোর দিতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬-২০০১ এর সময়কালের সরকার বাংলাদেশের নারীদের দাবি বাস্তবায়নে কাজ করে। ১৯৭২ এর সংবিধান অনুসারে সকল শ্রেণির নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির দূরদর্শিতাসম্পন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমান সংসদে মোট ৭৩ জন নারী সাংসদ আছেন। নারীরা শুধু সংরক্ষিত নয় সরাসরি নির্বাচন করতে পারেন। এজন্য নারীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘নারীর কাজের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। যতক্ষণ রাজনীতিতে নারীর ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব বা সমান ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণ না হচ্ছে ততক্ষণ সংরক্ষিত আসন রাখতে হবে। নারীদের জীবনে থাকা প্রতিবন্ধকতা দূর করে আগামী প্রজন্মের জন্য সমতাপূর্ণ দেশ গঠনে গণতন্ত্র অপরিহার্য। আমরা এমন গণতন্ত্র চাই, যা নারীর অগ্রগতির জন্য সহায়ক হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘বর্তমানে নারীরা আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে, অনেক স্বাধীন। বর্তমানে ৫টি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নারীদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারপরও বাল্য বিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা আছে। প্রতিটি ধর্ম অনুসারে প্রচলিত পারিবারিক আইন অনুযায়ীও নারীকে তার প্রাপ্য দেয়া হচ্ছে না, এটি আগে নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি সিডও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন গুরুত্বপূর্ণ, এর সাথে নারী আন্দোলনের একটা সম্পর্ক আছে। নারী জনপ্রতিনিধিদের কাছে নারী সমাজের প্রত্যাশা রয়েছে। পুরুষ নির্মিত সমাজে নারীদের প্রত্যেককে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করার মনোভাব থাকতে হবে। সকল নারীর প্রতি সহিংসতাকে বন্ধ করতে নারী জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে।’

সংসদ সদস্যরা বলেন, বর্তমান সরকারপ্রধান বিশ্বাস করেন, কাউকে পিছনে ফেলে নয় সকলকে সাথে নিয়ে এগোতে হবে। নারীরা পেছনে পড়ে থাকলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। কাজেই নারীদের উন্নয়নের মূলস্রোতধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সমঅধিকার চাওয়া নয়, অর্জন করতে হবে। রাজনীতিতে নারীদের ৩৩শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারী আন্দোলনকারী সংগঠন, সরকার প্রতিনিধি ও সিভিল সোসাইটিসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাকিয়া পারভীন খানম, সৈয়দা রুবিনা আক্তার, অ্যাডভোকেট জাকিয়া তাবাসসুম, লুৎফুনন্নেছা খান, শামসুন্নাহার, রওশন জাহান সাথী প্রমুখ। সভার শুরুতে প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রয়াণে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম।