ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রাব্বি ইসলাম ওরফে এম জেড এইচ রাব্বিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরিদপুর সদরে এ অভিযান চালায়। সিআইডি বলছে, প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বি তার সহযোগীদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত ২৩ আগস্ট রাতে ভাঙ্গা থানার হাজরাকান্দা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় নবম শ্রেণির ছাত্রী মিম আক্তার। এরপর সে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষ পান করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি জানার পর সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের নেতৃত্বে এলআইসি শাখার ওই দলটি সরেজমিনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। এতে রাব্বিসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। এরপর রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, সৎ মামাতো বোন মিমকে প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল রাব্বি। এতে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মিমের বয়স মাত্র ১৫ বছর হওয়ায় তার পরিবার সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এরপরই রাব্বি প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে সে ও তার সহযোগীরা মিমের বাসায় ওত পেতে থাকে। রাতে মিম বাথরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলে রাব্বি ও তার সহযোগীরা মুখ চেপে ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে বললে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের খুন করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ঘরে থাকা বিষ পান করে মিম। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়।