১৩ সেপ্টেম্বর সমকালের শেষ পাতায় প্রকাশিত একটি সংবাদ শিরোনাম 'মনোনয়ন দ্বন্দ্বে দলের পদ গেল এমপি পংকজের'। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথের সঙ্গে একই সংসদীয় আসনের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদের বিরোধ রয়েছে। সংবাদ শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, তাঁদের দু'জনের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধেই পংকজ নাথকে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, পংকজ নাথ ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলায় তাঁর নিজস্ব বলয় তৈরি করতে থাকেন। ফলে আওয়ামী লীগে বিভাজন সৃষ্টি হয়। এর জেরে একাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। উলানিয়া উত্তর, উলানিয়া দক্ষিণ ও ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হত্যা মামলা তদন্তাধীন। পংকজ অনুসারীদের করা একটি হত্যা মামলার আসামি বর্তমানে উলানিয়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জামাল মোল্লা (সমকালের প্রতিবেদনে যাঁর নাম লেখা হয়েছে জামাল হোসেন মোল্লা)।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন পংকজ দেবনাথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান পংকজ দেবনাথ। তখন হলফনামায় নাম থেকে 'দেব' বাদ দিয়ে হয়ে যান পংকজ নাথ। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্কিত হতে থাকেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, দলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি। আওয়ামী লীগের অনেক পরীক্ষিত নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে অনুগত লোক তৈরিতে মনোযোগী হন। এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে পংকজ নাথের।
প্রথম মেয়াদে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে নিজের অনুগত লোকদের দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করেন। ফলে পাল্টাপাল্টি কমিটিতে একটি অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক মইদুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও তিনি নিষ্ফ্ক্রিয়। ফলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম ভুলুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেখিয়ে দলীয় কাজ চালাচ্ছেন পংকজের অনুসারীরা। আর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কামাল উদ্দিন খানকে কেন্দ্র করে বিরোধীপক্ষ দলীয় কাজ চালাচ্ছে।
২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য হলেও সম্মেলনের আগেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান পংকজ নাথ। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন আগের বারের দাপুটে এ রাজনীতিক। পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁর অনুগতরা হারতে থাকে। সর্বশেষ, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাসহ দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি পেলেন পংকজ নাথ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ১৫ দিন পর পংকজ নাথ তাঁর ব্যাখ্যা দেওয়ার পর। বরিশাল-৪ আসনের মতো অভ্যন্তরীণ কোন্দল অন্য এলাকায়ও রয়েছে। এসব গ্রপিংয়ের কারণে আর যাতে সহিংসতা না হয় তা নিশ্চিত করা দলের নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব।
বানারীপাড়া, বরিশাল

বিষয় : ইমামুল ইসলাম

মন্তব্য করুন