একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজে ব্যয় হতে পারে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। অথচ কাজটি প্রায় ৭ কোটি টাকায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা গচ্চা যাবে। অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটা দেওয়ার জন্যই সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর আব্দুস শহীদ সমকালকে বলেন, আগেও এই প্রকল্পে এমন ঘটনার প্রমাণ পেয়ে বাতিল করা হয়। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে কিনা কাগজপত্র এলে বোঝা যাবে। কোনো ধরনের অসংগতি থাকলে বিশ্বব্যাংককে জানানো হবে। প্রয়োজনে দরপত্র আবারও বাতিল করা হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে 'বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রজেক্ট'-এর অধীনে ২০২১ সালে দেশের ৩০টি পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর মধ্যে জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভায় প্রায় ১৩ কিলোমিটার পানির সরবরাহ পাইপলাইন স্থাপনের দরপত্র আহ্বান করা হয় ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর। দরপত্র আহ্বান করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ পাল। প্রথম দফায় সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে তিনি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠান। অধিদপ্তর পর্যালোচনা করে দেখে, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতার এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাকল্যে এ ধরনের কাজ করেছে ৭-৮ কোটি টাকার। অন্যদিকে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা প্রায় হাজার কোটি টাকার কাজ করেছে। আবার তাদের উদ্ৃব্দত দরও অনেক কম। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দফায় দফায় চিঠি চালাচালির এক পর্যায়ে দরপত্রটি বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। এবারও একই ঘটনা ঘটান পঙ্কজ পাল। পর্যালোচনা করে একই ধরনের অসংগতি পেয়ে সেটিও বাতিল করে এবং ফের ঠিকাদার মনোনীত করার নির্দেশ দেয় অধিদপ্তর।

সূত্র বলছে, এবারও একই ঘটনা ঘটেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ পাল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা খন্দকার এন্টারপ্রাইজ এবং মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড জেভি নামের প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত করে কাজটি তাকে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্ৃব্দত দর ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৪ টাকা। আর এইচআইসিসি-এসআরসি জেভি নামের প্রতিষ্ঠানের উদ্ৃব্দত দর ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, যা মনোনীত প্রতিষ্ঠানের দরের চেয়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা কম।

এ প্রসঙ্গে পঙ্কজ পালের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ব্যস্ততার দোহায় দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে ফোন দিতে চেয়েও দেননি। এ প্রতিবেদক পরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। এ বিষয়ে ইসলামপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের শেখও কল রিসিভ করেননি। এসএমএস দিলেও সাড়া দেননি তিনি।

বাদ পড়া সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এইচআইসিসি-এসআরসি জেভির স্বত্বাধিকারীদের অন্যতম জাকির হাসান জুয়েল সমকালকে বলেন, প্রথম দু'বার দরপত্রে ন্যাশনাল পলিমার নামের একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছিল। কিন্তু পছন্দের কোম্পানিকে কাজ দিতে তাদের বাদ দেওয়া হয়। ক্ষোভে এবার ন্যাশনাল পলিমার দরপত্রে অংশই নেয়নি। এবার আমরা সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও কাজ পেতে যাচ্ছে খন্দকার এন্টারপ্রাইজ এবং মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। তিনি আরও বলেন, একবার হলে ভুল, তিনবার হলে অবশ্যই অপরাধের শামিল। চলতি বছরের মার্চের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কর্মকর্তাদের কারণে এখন পর্যন্ত ঠিকাদারই মনোনীত হয়নি। এভাবে সময়ক্ষেপণে ঋণের সুদ বেড়ে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সরকারের।