বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মোহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন বৃহস্পতিবার রাতে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে তাঁরা সম্মত হন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করলে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সম্মত হন। খবর বাসসের। 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে সেখানে শেখ হাসিনার বাসস্থানের ‘দ্বিপক্ষীয় বৈঠক রুমে’ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশ থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

তিনি কম্বোডিয়ায় কৃষি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান।

হুন সেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, আসিয়ানের সভাপতি দেশ হিসেবে কম্বোডিয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। 

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক আন্তোনিও ভিতোরিনোর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আইওএম মহাপরিচালককে বলেছেন, আইওএম করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলায় কার্যকর সুপারিশমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ভুক্তভোগীদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য আইওএমকে ধন্যবাদ জানান।

আইওএম মহাপরিচালক অভিবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও আইওএমর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানি-সাদ্রিউর সঙ্গে আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিল একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।