বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইআইআরপি প্রকল্পের অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা সৌরবিদ্যুৎ লো লিফট্‌ পাম্প (এলএলপি) দুটি নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করায় কাঙ্ক্ষিত পানি সরবরাহ করতে পারছে না। বরেন্দ্র্র কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির দায়সারা কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বোরো মৌসুমে পাম্প দুটি চালুর কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালি ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে অকেজো প্রকল্পে পরিণত হয়েছে এলএলপি দুটি। অভিযোগ কৃষকদের।

কৃষকরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় রোদের ওপর নির্ভর করে সেচ চলে। বৃষ্টি বা আকাশ মেঘলা থাকলে বন্ধ থাকে সেচ। পুরোপুরি প্রাকৃতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে সেচ ব্যবস্থার এলএলপি পাম্পে ভরসা রাখলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এটি কৃষির উন্নয়নের প্রকল্প হলেও এ ব্যাপারে জানা নেই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেনি কর্তৃপক্ষ। শুরুর আগেই সেচের খরচ নিয়ে কৃষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ চালিত সেচ ও বিনা খরচের সোলার সিস্টেমেও একই দাম (ঘণ্টায় ১১০ টাকা) ধরা হয়েছে।

ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ (ইআইআরপি) প্রকল্প নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কুটি বামনডাঙ্গা ও লুছনি এলাকায় দুটি সৌরবিদ্যুৎ লো লিফট্‌ পাম্প স্থাপন করা হয়। দুটি পাম্পে ব্যয় করা হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে পাম্প দুটি দিয়ে দুধকুমার নদ থেকে পানি তুলে কৃষকদের জমিতে সেচ দেওয়া ছিল এর উদ্দেশ্য।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু করে প্রকল্পটির কাজ ধীরগতিতে করতে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা কোম্পানি, যা তদারকি করে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নাগেশ্বরী জোন অফিস। গত বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, একটি পাম্প দেড়শ বিঘা জমিতে পুরো মৌসুমে সেচ দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন। ভূ-উপরিস্থ পানি অর্থাৎ দুধকুমার নদের পানি সেচের মাধ্যমে কৃষকদের জমিতে দেওয়া হবে। এ জন্য নিজস্ব পানির লাইন ও আউটলেট করা হয়েছে। সেচের জন্য কৃষকরা প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১১০ টাকা বিল পরিশোধ করে সেচ সুবিধা নেবেন। এর মধ্যে সেচ পরিচালনাকারী ঘণ্টায় ১০ টাকা পাবেন।

কৃষকরা বলছেন, যেভাবে সেচ দিতে চাচ্ছে তাতে ফসল ভালো হবে না। কারণ, ব্যাটারি না থাকায় সেখানে সোলার থেকে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সুযোগ নেই। এ কারণে আকাশে রোদ না থাকলে সেচ চালু করা যাবে না। রাতেও সেচ বন্ধ রাখতে হবে। চরাঞ্চলের জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ না দিলে ফসল ভালো হয় না। এ ছাড়া সোলার সিস্টেমে নিম্নমানের সামগ্রী লাগানোর কারণে কাঙ্ক্ষিত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি বলেন, 'এত টাকার প্রকল্প অথচ কোনো সিস্টেম নেই।'

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে প্রকল্প হলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ বিষয়ে কিছুই জানে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার ছিল।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নাগেশ্বরী জোন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার বলেন, 'কৃষকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী বোরো মৌসুমে তাঁরা এখান থেকে সেচ নিতে পারেন।' নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, 'যে পাম্পটি টেস্ট করার সময় পুড়ে গেছে, সেটি মেরামত করা হয়েছে। এখনও অফিসে আছে।'