সুলভ মূল্যে গাড়ি কিনে ভাড়া দেওয়ার (রেন্ট-এ-কার) ব্যবসায় লাগিয়ে মুনাফা দেওয়ার নামে প্রায় ৩০০ জনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জাকির হোসেন ওরফে জাকির চেয়ারম্যান। অবশেষে বুধবার কুমিল্লার মেঘনা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে দু'টি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার জাকির মেঘনা থানার ২ নম্বর মানিকাচর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মুগদা থানায় একটি প্রতারণার মামলা হয়। এর প্রেক্ষিতে ডিবি তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিম মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, জাকির চেয়ারম্যান বন্দর থেকে স্বল্প দামে গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নেন। সেই গাড়ি রেন্ট-এ-কারের মাধ্যমে মাসিক ভাড়ায় পরিচালনার জন্য চুক্তিও করেন। একই গাড়ি দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে  চুক্তি সম্পাদন করেন তিনি। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গাড়ি একাধিক জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করেন।

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে শুধু ইঞ্জিন নম্বর দিয়ে মাসিক কিস্তি পরিশোধের চুক্তি করে কিছুদিন কিস্তি দিয়ে পরে কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়াও আগে বিক্রি করা গাড়ি স্বল্প দামে মালিকানা হস্তান্তরের লোভ দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি প্রধান জানান, জাকির চেয়ারম্যান ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে ডাউন পেমেন্টে গাড়ি কিনতেন। আবার ব্যাংক থেকে গাড়ির বিপরীতে ক্রেতাকে না জানিয়ে ঋণ নিতেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে এমন প্রতারণার কথা তিনি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণার মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারিতদের তালিকায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি রয়েছেন।