ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদক প্রাপ্ত প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাধারণ সম্পাদক রণেশ মৈত্র মারা গেছেন। সোমবার ভোরে রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তবে রণেশ মৈত্রর শেষকৃত্য আজ হবে না বলে জানিয়েছেন তার ছোট ছেলে পলয় মৈত্রের স্ত্রী কল্যাণী ভট্টাচার্য।

কল্যাণী ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাবা পাবনা শহরে নিজের বাড়িতে থাকতেন। জ্বর এবং প্রশ্রাবে ইনফেকশনজনিত কারণে গত শুক্রবার তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরের দিন রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল রাত ৩টার দিকে তার স্যালাইনের নল ছুটে রক্ত বের হয়। এরপর নার্সকে ডেকে ঠিক করার কিছু সময় পর আমার স্বামী (পলয় মৈত্র) বুঝতে পারেন বাবা আর নেই। ভোর পৌনে চারটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন৷’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে তার মরদেহ মর্গে রাখা হবে। তার বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি পৌঁছানোর পর যাবতীয় কাজ শেষে নিজ বাড়ি পাবনায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বাবার।’

রণেশ মৈত্র ১৯৩৩ সালের ৪ অক্টোবর রাজশাহী জেলার ন’হাটা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পৈত্রিক বাসস্থান পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। বাবা রমেশ চন্দ্র ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।  নিজ জীবন সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়েই রণেশ মৈত্র দেশের অসহায়, শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেন। ১৯৫০ সালে পাবনা জিসিআই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫৫ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমেই তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু। এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগে তিন বছর সাংবাদিকতার পর ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে ডেইলি মর্নিং নিউজ এবং ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত দৈনিক অবজারভারে পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দ্য ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে দেশের শীর্ষ পত্রপত্রিকায় কলাম লিখে সারাদেশে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন।