উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান রশীদুল হাসানসহ ৯ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আহসানুল কবীর পলাশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. আছাদুজ্জামান এ আদেশ জারি করেন।

দুদক ওই ৯ জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধানে তাঁদের বিরুদ্ধে আমলযোগ্য তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।

সোমবার আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশে বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), ঢাকার মালিবাগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ইমিগ্রেশন) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়া বাকি আটজন হলেন- উত্তরা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল আরেফিন, সাবেক পরিচালক মুজিবুর রহমান, উত্তরা ফাইন্যান্স ও উত্তরা অটোমোবাইলসের ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, অনিল চন্দ্র দাস, উত্তরা ফাইন্যান্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট (হেড অব ট্রেজারি) মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট (হেড অব অ্যাকাউন্টস) কাজী আরিফুজ্জামান, নবগঙ্গা ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের পরিচালক শংকর কুমার সাহা ও শম্পা রানী সাহা।

আদেশে বলা হয়, অভিযুক্ত ওই ৯ ব্যক্তি দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা গোপন সূত্রে জানতে পেরেছেন। জনস্বার্থে তাঁদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আদেশ চাওয়া হয় দুদকের আবেদনে। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আদেশ দেওয়ার তারিখ থেকে তাঁদের বিদেশ যাত্রায় ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

আদালতে দুদকের পেশ করা আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত মতিউর রহমান, মুজিবুর রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায় ও সম্পদের বিপুল পরিমাণ অর্থের তথ্য গোপন, পরিচালক ও তাঁদের স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ লেনদেন, আর্থিক বিবরণীতে প্রতিফলন না ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ তহবিল আহরণ ও কর ফাঁকির অপরাধ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পরিচালক ও তাঁদের স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টিডিআর ইস্যু, ঋণ শ্রেণীকরণের গোপন এবং সন্দেহজনক লেনদেনসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সম্পৃক্ত অপরাধ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।