ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে রাশিয়া তাদের ধ্বংস ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রাশিয়া সীমা অতিক্রম করলে তাদের ধ্বংসাত্মক পরিণতি হবে। যুক্তরাষ্ট্র এর চূড়ান্ত জবাব দেবে। ওয়াশিংটনের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময় এলো, যার এক দিন আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মন্তব্য করেছেন- লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়ায় গণভোটের ফল তাদের পক্ষে এলে ওই অঞ্চলগুলো রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা পাবে। দৃশ্যত এর মাধ্যমে তিনি পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের হুমকি দেন।

ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গণভোট আজ মঙ্গলবার শেষ হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভোটের ফল ঘোষিত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওই অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগ বাসিন্দা রুশ ভাষাভাষী হওয়ায় গণভোটে মস্কোর পক্ষেই বিপুল জনরায় দেখা যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এমনটি হলে আগামী অল্প দিনের মধ্যেই গণভোটের ফলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়ে অঞ্চলগুলো রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে নিতে পারে দেশটির পার্লামেন্ট ডুমা। রুশ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সতর্ক করে বলেছেন, গণভোটের পর এই চারটি অঞ্চল মস্কোর সঙ্গে যুক্ত হলে সেগুলো নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবেই দেখবে রাশিয়া। সেক্ষেত্রে ওই অঞ্চলগুলোতে কোনো ধরনের আক্রমণ রাশিয়ার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে এবং তার প্রতিক্রিয়ায় সম্ভব সব পদক্ষেপই নেওয়া হতে পারে।

রুশ কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভান বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া দেখাবে। সেক্ষেত্রে মস্কোকে 'ধ্বংসাত্মক পরিণতির' মুখে পড়তে হবে। রাশিয়ার মিত্র কাজাখস্তানও এই গণভোটকে স্বীকৃতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

এদিকে রাশিয়ায় সেনা সমাবেশ নিয়ে বহু জল ঘোলা করার পর ইউক্রেন যুদ্ধে বাধ্যতামূলক যোগদানের জন্য সেনা নিযুক্তির তালিকায় ভুল হওয়ার কথা স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। তালিকায় শিক্ষার্থী, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষকেও যুদ্ধে যোগদান করতে বলা হয়েছিল। এ নিয়ে রুশ নাগরিকদের বিক্ষোভের পর ভুল স্বীকার করে শোধরানোর পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন গত ২১ সেপ্টেম্বর সেনা সমাবেশের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা নিয়ে গতকালও রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ হয়েছে। দেশটির অন্যতম অঞ্চল দাগেস্তানের রাজধানী মাখাচকালায় গতকাল বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা পুতিনের ঘোষণার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এই বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনী অনেককে গ্রেপ্তার করেছে। বেপরোয়াভাবে বিক্ষোভকারীদের আটক করার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার স্বাধীন মানবাধিকার গোষ্ঠী ওভিডি-ইনফো। সংবাদমাধ্যম জানায়, দাগেস্তান মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এর আগেও সেখানে বিদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জাতিগত সহিংসতার ইতিহাস আছে।

এদিকে রুশ বাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার এ খবর জানান। তিনি বলেন, ন্যাশনাল অ্যাডভান্সড সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম (নাসামস) পেয়েছে ইউক্রেন; যা দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল কিয়েভের। গত সাত মাসে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিয়েভকে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, 'বেসামরিক অবকাঠামো, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়-স্কুল রক্ষা করার জন্য এটিই যথেষ্ট নয়।' ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকটে থাকা জার্মানি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শিল্পোন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে।