ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার বিকেলে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এই হামলার শিকার হন। এ হামলায় ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি মো. খোরশেদ আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

ছাত্রদলের অভিযোগ, এএফ রহমান হল ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্র সমাবেশের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল।

জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির ২০ থেকে ২৫ নেতাকর্মী নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সড়ক দিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করার মিনিট তিনেকের মধ্যে স্যার এএফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াজুল ও সম্পাদক মুনের নেতৃত্বে লাঠি, স্টাম্প নিয়ে হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

হামলায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি-ফোকাস বাংলা

আহতদের মধ্যে সাতজনের মাথা ফেটে গেছে। ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক ছাড়াও আহত অন্য নেতাকর্মীরা হলেন- ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারহান মো. আরিফুর রহমান, রাজু আহমেদ, নাছির উদ্দিন শাওন, আবদুল জলিল আমিনুল, মো. মাসুম বিল্লাহ, সুপ্রিয় দাশ শান্ত, নাজমুস সাকিব, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুন্সি সোহাগ, প্রচার সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম খান, ছাত্রদল নেতা সাইফ খান, আকিব জাভেদ রাফি ও জোসেফ আল জুবায়ের। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

এর আগে ছাত্রদল ঢাবি শাখার নতুন কমিটির নেতারা উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে গত সোমবার গণমাধ্যমকে জানান। এই তথ্য প্রচার হলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেবেন বলে জানানো হয়। গতকাল বিকেল ৩টা থেকেই মধুর ক্যান্টিনে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিকেল ৪টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে ৩০ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি উপাচার্যের হাতে তুলে দেন। এ সময় বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতারা উপাচার্যের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলেন। ছাত্রলীগের একটা অংশ অবস্থান নেয় এএফ রহমান হলের সামনে। এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেখামাত্র তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ ব্যাপারে ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, 'আমরা উপাচার্য স্যারের অনুমতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। এ সময় এএফ রহমান হল ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা করে। এতে সাধারণ সম্পাদকসহ সাতজনের মাথা ফেটে যায়। আমিসহ আহত ১৫ জন।'

হামলার বিষয়ে মুনেম শাহরিয়ার মুন বলেন,'আমাদের এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে তারা হাতাহাতি করে মাটিতে ফেলে দেয়। তাই আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।' হাতে কাঠ দিয়ে মারার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি আরেকজনের হাত থেকে কাঠ নিয়ে রাস্তায় ফেলছিলাম। অন্য কিছু ঘটেনি।'

রিয়াজুল ইসলাম বলেন,'আমাদের একজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল মারধর করে। এটি দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করে, তখন বিষয়টি সমাধান করার জন্য আমরা ছুটে গিয়েছিলাম। আমি মারিনি, বরং সরিয়ে দিয়েছি।'

ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, 'মিথ্যাচার থেকে বিএনপির জন্ম। তাদেরই সংগঠন ছাত্রদল। তারা ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে পারে। তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। তাদের ফোবিয়া আছে- তারা মার খেলে মনে করে, ছাত্রলীগ তাদের মেরেছে। এখানে ছাত্রলীগের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছি। এর পর বিস্তারিত বলতে পারব।'

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, 'অনেক সময় আন্তঃসম্পর্কের ঘাটতি থাকলে, সমন্বয়ের অভাব থাকলে অনাহূত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। আমি তাদেরকে আসতে বলেছি। শিক্ষক হিসেবে তো অনেক কিছু বর্তায়। আমি তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছি- তোমরা সমন্বয় করে আসো। এটি যদি সংগঠনের কোনো শিক্ষার্থীর আশঙ্কা থাকে, আমাদের জানালে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। প্রক্টরকে বিষয়টি দেখতে বলেছি।'