বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা কিংবা সৃজনশীলতা অনেক বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা চারটি দিককে এর মধ্যে শনাক্ত করতে পারি। এগুলো হলো- সামাজিক দায়, সমষ্টির প্রতিনিধিত্ব, ক্ষমতার সঙ্গে সংঘাত এবং প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা। মানুষ যখন থেকে চিন্তার মধ্য দিয়ে নতুন উপলব্ধি করার ক্ষমতা অর্জন করে তখন থেকেই এই সংঘাতের জায়গা তৈরি হয়েছে। সমাজের একটা ক্ষুদ্র কিন্তু ক্ষমতাশালী অংশ তাদের ক্ষমতা রক্ষা করার চেষ্টা করেছে আর কেউ কেউ সৃজনশীলতা, বিশ্নেষণ ক্ষমতা, চিন্তাবোধ- সর্বোপরি সংবেদনশীলতা দিয়ে সেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার ক্ষয়, বিরোধ, অসংগতি চিহ্নিত করে নতুন সম্ভাবনা তৈরির চেষ্টা করেছে। এই সংঘাত অতএব মানুষের ইতিহাসে দীর্ঘদিনের। আমরা যাঁদের ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে জানি তাঁরাও এক পর্যায়ে এই বুদ্ধিবৃত্তির চর্চারই সৈনিক ছিলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে নতুন স্বাধীনতার প্রবর্তক ছিলেন। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চারই এক একজন বড় মাপের প্রতিনিধি তাঁরা। আবার কালক্রমে নিপীড়ক ক্ষমতাবানরা এই ধর্মকেই তাঁদের বর্ম বানিয়েছেন।

বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা একজনের জীবন-জগৎ সম্পর্কিত বোধকে বিশ্নেষণ করার মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়। কৌতূহল, প্রশ্ন- প্রশ্ন এবং বিশ্নেষণ প্রতিষ্ঠিত মত, পথ, বিশ্বাস ইত্যাদিকে চ্যালেঞ্জ করেই অগ্রসর হয়। কারণ, প্রশ্ন মানেই হচ্ছে বিদ্যমান যা কিছু তাকে আর পুরোপুরি স্বীকার না করা। স্বীকার না করা মানেই হচ্ছে তার মধ্যে একটা চর্চা সজীব থাকা, আর সেটিই বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, চিন্তার চর্চা, সৃজনশীলতার সূত্রপাত করে। যখনই বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রশ্ন আসে তখনই সেখানে প্রশ্ন আসে সামাজিক দায়ের, ক্ষমতার সঙ্গে তার একটা সংঘাতের বিষয় আসে।

এই অনুসন্ধান-অনুসন্ধিৎসা-প্রশ্ন-বিশ্নেষণ এইগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এর একটা প্রধান দিক হচ্ছে সামাজিক দায়, এমনও হতে পারে যে সমষ্টির মধ্যে সে বসবাস করে সেই সমষ্টি তার সঙ্গে একমত নয় এবং তার ওপরে খড়গহস্ত। তারপরেও সে ওই সমষ্টিকেই প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ সেই সমষ্টির যে শৃঙ্খল কিংবা বন্ধ্যত্ব সেটিকেই সে প্রশ্ন করছে। সুতরাং সে সেই হিসেবে সমষ্টিরই প্রতিনিধি। এই কথা চিন্তা এবং কাজ যখন সে করতে থাকে তখন যে প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা, তার সাথে তার সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। ক্ষমতার সঙ্গে তার সংঘাত অনিবার্য হবে; সেই ক্ষমতা রাষ্ট্রক্ষমতা তো হতেই পারে, ধর্মীয় ক্ষমতা হতে পারে, সামাজিক ক্ষমতা হতে পারে, সামাজিক যে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণি ও গোষ্ঠীগত ক্ষমতা সেগুলো হতে পারে।

ভারত এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে খ্রিষ্টপূর্বকালে যখন বিদ্যাচর্চা, নতুন-নতুন গবেষণা, নতুন নতুন চিন্তা দানা বাঁধছে তখন ইউরোপের বৃহৎ অংশে অন্ধকার। ভারতের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার তখন কেন্দ্র। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন এসে বিদ্যাচর্চা করছেন। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আমাদের এদিকে শালবন বিহার কিংবা মহাস্থানগড় এই সমস্ত জায়গা ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার তখন তীর্থস্থান। এরকম এক সময়ে চীনে সম্রাট এবং ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর মনে হলো যে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চাটা 'মাত্রা' ছাড়িয়ে যাচ্ছে; বিজ্ঞানী-দার্শনিক-লেখক, তাঁরা যে সমস্ত চিন্তা-ভাবনা করছেন, লেখালেখি করছেন সেগুলো ক্ষমতার জন্য বিপজ্জনক। পণ্ডিতদের মধ্যে যাঁরা ভক্তি প্রদর্শন করেন নাই, নতজানু হন নাই, আত্মসমর্পণ করেন নাই তাঁদের ধরা হলো, গর্তের মধ্যে পণ্ডিত আর তাঁদের সব রচনা ফেলে একসঙ্গে জীবন্ত কবর দেওয়া হলো। ওই ইতিহাস তো শেষ! ওইখানে কী লেখা হয়েছিল? জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা সেখানে কতদূর অগ্রসর হয়েছিল আমরা জানি না।

আমেরিকা নামে যে দেশ এখন পরিচিত সেটি প্রকৃতপক্ষে সম্প্রসারিত ইউরোপ। আদি 'আমেরিকা' দখল করেছে ইউরোপ। পঞ্চদশ শতক থেকে যার দখলপর্ব শুরু হয় কলম্বাস দিয়ে। লাখ লাখ মানুষ হত্যা আর সভ্যতা ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় দস্যু দখলদাররা যে আমেরিকা দখল করল সেটা যে একটা বিশাল সভ্যতা ছিল তা ক্রমান্বয়ে পরিস্কার হচ্ছে। সেখানে ধর্ম-রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন ব্যবস্থা, তাদের যে রীতিনীতি প্রথা-বিশ্বাস, তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার যে মাত্রা সেগুলো ইউরোপ থেকে তখন ছিল অনেক উচ্চপর্যায়ে। একটা জায়গায় তারা খাটো ছিল সেটা হচ্ছে যুদ্ধ-অস্ত্র। অস্ত্র এবং চক্রান্ত মোকাবিলা করতে পারেনি বলেই তারা ইউরোপের কাছে পরাজিত হয়েছে। কারণ, ইউরোপিয়ানদের কাছে গান পাউডার ছিল, যেটা তাদের কাছে ছিল না। গান পাউডার, বন্দুক এবং তার সঙ্গে দখলের জ্ঞান-কৌশল-অর্থনীতি সেইগুলো দিয়েই একের পর এক দখল করে পুরোনো সভ্যতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়, তার ফলে প্রাচীন 'আমেরিকা'য় জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার অনেকটাই আমাদের অজানা।

ভারতবর্ষে ব্রাহ্মণ্যবাদের আধিপত্য ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও স্বাধীনতার পথে বরাবর প্রতিবন্ধক। গৌতম বুদ্ধের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, নতুন চিন্তা, জীবন কাঠামো ভারতবর্ষে ব্রাহ্মণ্যবাদী-বর্ণবাদী সংস্কৃতি কিংবা আধিপত্য থেকে মুক্তির পথ দেখায় মানুষকে। পরবর্তী সময়ে একটা পাল্টা প্রতিক্রিয়া হয় এবং ব্রাহ্মণ্য শাসকেরা ক্রমান্বয়ে গণহত্যা এবং বর্বর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে বৌদ্ধ প্রতিরোধের সব চিহ্ন ধ্বংস করে। তাদের ধর্মীয় শাস্ত্রমতে এরকম বিধানও ছিল যে, শূদ্ররা যদি বেদ পাঠ করে, তাহলে তার জিহ্বা কেটে নেওয়া হবে। কিংবা কোনো শূদ্র যদি তীর চালানো বা যুদ্ধ চালনা শিখতে যায় তাহলে তার আঙুল কেটে দেওয়া হবে। এসব শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো কার্পণ্য করা হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে থেকেও বের হয়েছে বিদ্রোহী চিন্তা।

যাকে হিন্দু ধর্ম বলা হয়, তা বস্তুত বহুমতের একটা মিশ্রণ, বহু ধর্মের সমষ্টি আসলে। এই বহু ধর্মের সমষ্টি হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে যে বিভাজন সেই বিভাজনটা হচ্ছে প্রধানত জাত বা কাস্ট বা বর্ণ অনুযায়ী। উচ্চবর্ণ, নিম্নবর্ণ ধরে প্রধানত চারভাগ, তার মধ্যে আরও অনেক উপভাগ। হিন্দু সমাজে এগুলোর বাইরে আর একটা বড় জনগোষ্ঠী হচ্ছে 'বর্ণহীন', যাদের কোনো বর্ণের মধ্যে ফেলা হয় না। যাদের গান্ধী খুব আদর করে নাম দিয়েছিলেন হরিজন। হরিজন নাম দেওয়ায় তাদের সামাজিক অবস্থানের যে খুব পরিবর্তন হয়েছে তা নয়, সামাজিকভাবে তারা এখনও অচ্ছুত। সারা ভারতে বর্ণবাদী হামলায় নিম্নবর্ণের বা অস্পৃশ্য মানুষ যতো মারা গেছে তার হিসাব পাওয়া কঠিন। আর সামগ্রিকভাবে-ধারাবাহিকভাবে তাদের ওপরে যে নির্যাতন সেটাতো অব্যাহতই আছে। যে জীবন যাপন করে নিম্নবর্ণের মানুষ সেটাকে কোনোমতেই মানুষের জীবন বলা যায় না।

গুজরাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় বহু রক্তাক্ত অধ্যায় তৈরি হয়েছে ভারতে। বর্তমানে বিজেপি শাসনে এই বিদ্বেষী তৎপরতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
আমরা ইউরোপে খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে দেখেছি ভয়ানক অনেক বর্বর অধ্যায়। সেইখানে একসময়ে চার্চ এবং রাষ্ট্রের সম্মিলনের ফলে সারা ইউরোপে কত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, কত গণহত্যা হয়েছে এমনকি ডাইনি নাম দিয়ে কত লাখ লাখ নারীকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, সেই পর্বগুলো অনেক সময় স্মরণে থাকে না। ইউরোপে উত্তর আমেরিকায় জাতিগত ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর রাজনীতি এখন অনেক শক্তিশালী। বিশ্বব্যাপী মার্কিনি বর্বর আগ্রাসনে ঈশ্বর আর ধর্মের নামাবলি ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে, মুসলিম বিদ্বেষ এর অন্যতম চালিকা শক্তি।

অন্যান্য ধর্মের মতো ইসলাম ধর্মেও নানা ভাগ। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সুন্নি-শিয়া বিরোধটা ওই রকম আকার ধারণ করেনি, যেমন পাকিস্তানে হয়েছে, শিয়া এবং সুন্নির সংঘাত সেখানে খুবই নিয়মিত ঘটনা। সুন্নিরা সেখানে শক্তিশালী, শিয়ারা সংখ্যালঘু। শিয়া মসজিদের ওপরে হামলা হয়েছে বহু, প্রচুর শিয়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন আক্রমণে নিহত হয়েছেন। সুন্নি-শিয়ার বাইরে আবার সুন্নিদের ভেতর বিভিন্ন ধরনের মাযহাব আছে, আবার লা-মাযহাবও আছে। আবার মাযহাবিদের মধ্যে বিভিন্ন রকম তরিকা আছে। সেগুলোর মধ্যেও বিভিন্ন রকমের ভাগ আছে এবং একটা গোষ্ঠী আরেকটা গোষ্ঠীকে খাঁটি মুসলমান হিসেবে স্বীকার করেন না। কেউ কেউ অন্যকে কাফের বলে সম্বোধন করে। তাহলে এটা একটা পরিস্থিতি যা শুধু এরকম না যে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বাইরে যারা, যারা ধর্মে অবিশ্বাসী তাদের জন্য ভীতিকর কিংবা আতংকের, তা নয়। এমনকি যারা বিশ্বাসী বলে নিজেদের মনে করে তারা নিজেরাও যদি সংখ্যায় কম হয় কিংবা শক্তিতে দুর্বল হয় বা রাজনৈতিক প্রভাব কম থাকে তাহলে তাদের অবস্থানও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। নিজেদের প্রচার প্রকাশনা, মতপ্রকাশ, চিন্তার স্বাধীনতাও এখানে নিরাপদ থাকে না। যে কোনো সময়ে যে কোনো ধরনের হুমকি, উস্কানি এমনকি আক্রমণের শিকার হওয়া সম্ভব। চিন্তা, মত, বিশ্বাসের জন্য আক্রমণ, ভীতি, ত্রাস এখন বিশ্বের বহু অঞ্চলে বাংলাদেশে এখন চলতি বিষয়। সকল বিদ্বেষ, ত্রাস, চাপ, হুমকির বাইরে গিয়ে মানুষের দাঁড়ানোর চেষ্টাও আছে।

ধর্ম, লোকজ্ঞান, দর্শন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মের নামে বা না-নামে নতুন নতুন চিন্তার চর্চার আমরা সাক্ষাৎ পাই। যেমন আমরা খনার বচনের কথা জানি। এই খনা হচ্ছেন আমাদের ইতিহাসে, আমাদের জানা ইতিহাসে, এই অঞ্চলের ইতিহাসে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও স্বাধীনতার এক প্রবল শক্তির দৃষ্টান্ত, আবার একই সঙ্গে নারী ও নতুন চিন্তার ওপর সমাজ ক্ষমতা বড় ধরনের ফ্যাসিবাদী হামলারও একটা বড় দৃষ্টান্ত। তাঁর সম্পর্কে যতদূর জানা যায় তিনি নতুন নতুন পর্যবেক্ষণ, বিশ্নেষণ, চিন্তা, ভাবনা মানুষের সামনে উপস্থিত করতেন। এখন হয়তো তার সঙ্গে অনেক কল্পকথা যোগ হয়েছে, অলৌকিকত্ব যোগ হয়েছে, কিন্তু তাতে তাঁর প্রজ্ঞা, জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেচনা, প্রশ্ন, বিশ্নেষণ ক্ষমতার অসাধারণত্ব খর্ব হয় না। চিন্তা ও বিশ্নেষণের অসাধারণ ক্ষমতা থাকার ফলেই, সমাজ সেই সময় খনার সেই ক্ষমতাকে ধারণ করতে পারে নাই কিংবা হুমকি বোধ করেছে। সেই কারণে খনার জিহ্বা কেটে নেওয়া হয় এবং তারপর থেকে তিনি আর কথা বলতে পারেন নাই। কিন্তু তাঁর বচনগুলো আমাদের সমাজে পরম্পরায় রয়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কত লেখক শিল্পী কিংবা চিন্তাবিদ এরকমভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, আত্মাহুতি দিয়েছেন তা আমরা জানি না। বহু জায়গায়-বহু দেশে-বহুকালে। একইসঙ্গে বর্তমানকালে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় পুঁজির অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।

তার মানে প্রতিটা পর্যায়ে মানুষের ইতিহাসে জানা অজানা, একটা অবিরাম লড়াইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়। ভিন্নমত, ভিন্নপথ, ভিন্ন ব্যাখ্যা, ভিন্ন বিশ্নেষণ বা প্রশ্ন সামনে এনে ইতিহাসে বারবার অসংখ্য মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন এবং তারপরেও এটা কখনোই থামে নাই। মানুষের ইতিহাসে এটা কখনোই মাটিচাপা দেওয়া যায় নাই, নিস্তব্ধ করা যায় নাই। এটাই মানুষের অন্তর্শক্তি। বুদ্ধিবৃত্তি বা সৃজনশীলতার জন্ম এখানেই। দমনপীড়নের যে দমবন্ধ পরিস্থিতি তা পরিবর্তনের আর কোনো পথ নাই। যাকে আমরা বলি মানুষের সংগঠিত শক্তি বা মানুষের সংগঠিত আওয়াজ সেটাকে ভাষাদান করাটাও লেখক-শিক্ষক-শিল্পীর সামাজিক দায়িত্ব। তাদের এই কাজে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি ভয় আছে ক্ষমতার আগ্রাসনের। এরকম হাজারো সংঘাতের মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যতের নতুন দুনিয়ার সম্ভাবনা তৈরিও মানুষের ইতিহাসের অংশ।

লেখক
অর্থনীতিবিদ
প্রাবন্ধিক