সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপনির্বাচনে একটি রাজনৈতিক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি লিখিত অভিযোগ প্রধান বিচারপতির কাছে দিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ছয় আইনজীবী এ অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিচারপতির স্ত্রী ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রাব্বী বুবলী বলেন, তিনি গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তে সরে আসেন।

বুবলী বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আমার বাড়িতে আমার বাবা প্রয়াত ফজলে রাব্বী মিয়ার অনুসারী বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী আসেন। মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে আমি তাঁদের সামনে সান্ত্বনামূলক বক্তব্য দিই। পরে বাবার জন্য মোনাজাত করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই আমার স্বামী বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ওই মোনাজাতে অংশ নেন।

তিনি বলেন, তখন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপনও উপস্থিত ছিলেন। এটি কোনো নির্বাচনী সভা ছিল না।

প্রধান বিচারপতির কাছে আইনজীবীদের দাখিল করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম ও ভিডিও থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিচারপতিকে অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্য প্রার্থী। এর মাধ্যমে বিচারপতি খুরশীদ আলম সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন; তিনি কোর্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সিনিয়র সহসম্পাদক মাহফুজ বিন ইউসুফ, সহসম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম আকতার জাকির, মনজুরুল আলম সুজন ও কামরুল ইসলাম। তাঁরা বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে নির্বাচিত।