পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় এখনও এক শিশুসহ তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো চলে উদ্ধারকাজ। সকাল ৬টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের আটটি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ছাড়া ১২ জন ডুবুরি তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুরের খানসামা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালান।

তবে রাত ৯টা পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। এর আগে বুধবার পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনও নিখোঁজ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের হাতিডুবা শিকারপুর গ্রামের ভূপেন (৪০), একই উপজেলার সাকোয়া ডাঙ্গাপাড়ার সুরেন (৬৫) এবং ঘাটিয়ার পাড়া গ্রামের ধীরেন্দ্র নাথের শিশুকন্যা জয়া রানী (৪)। গত রোববার শতাধিক হিন্দু তীর্থযাত্রীকে নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

এদিকে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গতকাল মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিহত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তা দেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত ৬৯ জনের প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যদের নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ১০ কেজি করে চাল, ডাল, চিনি, লবণ, তেলসহ খাদ্যপণ্যের দুটি প্যাকেট দেওয়া হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২৫ হাজার, রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ হাজার এবং রেড ক্রিসেন্ট থেকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বুধবার জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নিহত এবং নিখোঁজ ৭১ জনের প্রত্যেক পরিবারে ৩০ হাজার করে ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকার অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।