ঘড়ির কাঁটায় রাত ৯টা। এক দোকানের সামনে আলোয় বসে টাকা গুনছেন প্রবীণ আক্কাস আলী। সঙ্গে তাঁর ভাগনি নাজমা বেগম। দিনভর মানুষের কাছে হাত পেতে যা পেয়েছেন তার হিসাব চলছে। একজন ৩৫০, অপরজন পেয়েছেন ৩০০ টাকা।

ভিক্ষা না করলে স্ত্রীকে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। তাই মানুষের কাছে হাত পাতেন এক সময়ের খেটে খাওয়া আক্কাস (৬৫)। পান না সরকারি কোনো সুবিধাও। দুই ছেলে থাকার পরও ভিক্ষায় নামতে হবে- তা কোনোদিন ভাবেননি আক্কাস।

আক্কাসের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচর নওপাড়া (কুডেরচর) গ্রামে। গত শুক্রবার রাত ৯টায় আক্কাসের সঙ্গে দেখা হয় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মার্কেটের নিচে। প্রতি শুক্র ও রোববার ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে ভিক্ষা করেন তিনি। ভিক্ষা শেষে ১৫ কিলোমিটার দূরের বাড়িতে কোনোদিন হেঁটে যান, কোনোদিন ইজিবাইকে।

আক্কাস অবশ্য ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছেন সাত মাস আগে। এর আগে অসুখে বছরখানেক শয্যাশায়ী ছিলেন। নিজের শারীরিক অসুস্থতায় পেশা পাল্টে হয়েছেন ভিক্ষুক। আক্কাস বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিল-পাটা কাটতেন। কিন্তু এখন সেই কাজ তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। বাত তাঁর দুই পা আক্রান্ত করায় বছরখানেক বাড়িতে কর্মহীন ছিলেন। অনেক দিন ভাতের জন্য কষ্ট করে মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য হন তিনি। হাত পেতেই স্ত্রী রওশনা খাতুনকে নিয়ে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন।

আক্কাস আলী বলেন, কাগজে বয়স কম থাকায় বয়স্ক ভাতা পান না। অন্য কোনো সুবিধাও পান না। যখন শয্যাশায়ী ছিলেন তখন ছেলেরাও খোঁজ নেয়নি। ভিক্ষা করতে হবে তা ভাবেননি কোনোদিন। তিনি বলেন, 'ভিক্ষা না করলে না খাইয়া মরতে হবে।'

আক্কাসের ভাগনি নাজমা একই গ্রামের আজিজুর রহমানের স্ত্রী। আজিজ পেশায় কুলি। স্বামীর টাকায় সংসার ও সন্তানদের পড়ালেখা না চলায় এলাকায় মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। কিন্তু যা পেতেন তা যথেষ্ট নয়। এ কারণে গত দুই বছর আগে ভিক্ষা শুরু করেন। নাজমা বেগম বলেন, সন্তানদের জন্য ভিক্ষা করতে নেমেছেন। স্বামীর একার উপার্জনে সব খরচ চালানো সম্ভব নয়। ছেলেদের শিক্ষিত করতে পারলে তাঁর আর ভিক্ষা করতে হবে না।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার কার্যক্রম তাঁদের রয়েছে। ভিক্ষুক তাঁদের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলে যাচাই করে পুনর্বাসন করা হবে।