আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের দিনগুলো অনেক স্পর্শকাতর। দুর্বৃত্তদল ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপায়। যেটা আমরা অনেকবার দেখেছি। কাজেই আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেবী দুর্গার কাছে আমাদের কামনা থাকবে এই অপশক্তির বিনাশ হোক।

সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে অষ্টমীর সন্ধিপূজা শেষে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আছেন। ভয়ের কোনো কারণ নেই। সারাদেশে দুর্গোৎসব উৎসবের মতোই উদযাপন হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, দেবী দুর্গার আগমন ভক্তরা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করছে। সার্বজনীন এই উৎসবে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সব মানুষ এই পূজায় আসছেন। আপনাদের নিরাপত্তা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এবং কর্তব্য।   

তিনি বলেন, আমি সব নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলবো। কেননা এদেশে প্রায় ১৪ মাস পরে যে নির্বাচন হতে চলেছে সে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক চক্রান্তের খেলা চলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক উস্কানিমূলক তৎপরতা চলছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে মাত্র একটি পূজায় সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ১৩ বছরে মাত্র একবার সারা দেশে কয়েক জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটেছে কিন্তু বারোটি পূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশে ৩২ থেকে ৩৪ হাজার পূজা মণ্ডপ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারো ঘুম নেই, তারা সতর্ক অবস্থায় আছে।

তিনি বলেন, পূজা মণ্ডপে আপনারা বিরোধীদের পাবেন না। তারা কান পেতে আছে কখন গত বছরের মতো একটি ঘটনা ঘটে। তাঁরা ঘরে বসে রূপরেখা তৈরি করছে। আসলে তাদের রূপও নেই, রেখাও নেই। তাঁদের আন্দোলনের রূপরেখা খালি হচ্ছে আর হচ্ছে। তবে কী হচ্ছে, কবে হচ্ছে—কেউই জানে না। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, নালিশ পার্টির লোকজন সকাল ঘুম থেকে ওঠে চোখ কচলাতে কচলাতে গুলশানে-বারিধারায় যায় নালিশ জানাতে। যাদের কাছে নালিশ করে তাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই, পৃথিবীর কোন দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়? একটা দেশ দেখান। বাংলাদেশে কেন হবে? তত্ত্বাবধায়কের পচা গলিত লাশ মিউজিয়ামে পাঠিয়েছি, সেটি আবার কেন টেনে নিয়ে আসছেন? 

বিভিন্ন দেশকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আপনাদের এতো মাথা ব্যথা কেন? নিজেদের দেশের আয়নায়, নিজেদের গণতন্ত্রের চেহারা দেখুন। তার আগে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে আসবেন না। আমরা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত এ কথা আমরা বলবো না। আমরা উন্নতি করছি, সামনের দিকে আরও উন্নতি করবো। কাজেই এই নিয়ে এত হৈ চৈ, নাক গলানোর কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না৷ এসব না করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামান। যুদ্ধ করছে বড় দেশগুলো আর ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের মতো ছোট দেশগুলোকে।

এ সময় পূজামণ্ডপে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।