সমকাল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আগাম সতর্ক ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জনগণের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিলে উন্নয়নও টেকসই হবে। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২২ উপলক্ষে 'দুর্যোগে আগাম সতর্কবার্তা, সবার জন্য কার্যব্যবস্থা' শীর্ষক বৈঠকটি গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি ও মডারেটর ছিলেন সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান।

বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, আগাম কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কারণেই দুর্যোগ প্রশমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে রোল মডেল। আমরা সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই বার্তা দিই, লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাই। দুর্গতদের জন্য অর্থ, শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, পানীয়, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য আলাদা র‌্যাম্পের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেটেরও ব্যবস্থা আছে। ফলে মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনতে পেরেছি।

সভাপতির বক্তব্যে আবু সাঈদ খান বলেন, আমরা উন্নয়নের সহযোগী পত্রিকা। দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কাজ করতে চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএম তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে জীবন এবং সম্পদের ক্ষতি কম হয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে। যাঁরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষণা ও বিশ্নেষণ করেন তাঁরা সতর্কবার্তা দেবেন। বাকি কাজ দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে করতে হবে। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মন্ত্রণালয়কে নিরন্তর চেষ্টা চালাতে হবে। সব ধরনের দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আতিকুল হক জানান, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও মোবাইল টাওয়ারগুলো যেন অকেজো হয়ে না পড়ে, সেজন্য তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ হচ্ছে। এ ছাড়া দেশে বজ্রপাত এখন বড় দুর্যোগ। গত ছয় মাসে বজ্রপাতে ২৮২ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৭৮ জন।

তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাধ্যমে পাওয়া আগাম সতর্কবার্তা প্রচার করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। সব প্রকল্পের সঠিক প্রচার করতে হবে, যাতে কৃষক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী বজ্রপাতে প্রাণ না হারান। বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া ২৮২ জনের ২৭৮ জনই প্রান্তিক কৃষক। তাঁরা জমিতে কাজ করার সময় মারা গেছেন। কৃষকদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাবে। এ বিষয়ে আমাদের অধিদপ্তর কাজ করছে। দুর্যোগ প্রশমনে গৃহীত সব প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করব।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপ-উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট আরিফ আব্দুল্লাহ খান, কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সেবাস্টিন রোজারিও এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকার। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফ্লাড বিডব্লিউডিবির ফোরকাস্টিং অ্যান্ড ওয়ার্নিং সেন্টারের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া ও গণউন্নয়ন কেন্দ্র বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সালাম।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতুবৈচিত্র্যের এ দেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, শৈত্যপ্রবাহসহ নানা দুর্যোগের সঙ্গে পরিচিত মানুষ। দুর্যোগ মানেই মানবিক বিপর্যয়। দুর্যোগকালে নারী-শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণরাই বেশি সংকটে পড়েন।