ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শ্বশুরবাড়ির লোক বলছেন, মাদকাসক্ত ছিলেন অভিযুক্ত বাবু

ব্যাংক ঋণের হতাশা থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা!

ব্যাংক ঋণের হতাশা থেকে  স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা!

আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর। নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দাড়োয়ানী বন্দর বাজার গ্রামে এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন সমকাল

 বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ও নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:২৮

নীলফামারীতে গুরুতর আহত এক ব্যবসায়ী এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, স্ত্রী-সন্তানদের শ্বাসরোধে হত্যার পর গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন আশিকুর মোল্লা বাবু নামে কাঠ ও আসবাব ব্যবসায়ী। গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দাড়োয়ানী বন্দর বাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বজন ও পুলিশের ধারণা, ব্যাংক ঋণ শোধ করতে না পারার হতাশা থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন আশিকুর।

তিনি চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মোল্লার ছেলে। নিহত তিনজন হলেন– তহুরা বেগম (৩৫), তাঁর মেয়ে আয়েশা আক্তার (১০) ও জারিন আক্তার (৮)। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৯টার দিকে আশিকুরের বাড়ির ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ পান প্রতিবেশীরা। তারা ছুটে গিয়ে দেখেন, উঠানে গলাকাটা অবস্থায় ছোটাছুটি করছেন তিনি; সারা শরীরে রক্ত। প্রতিবেশীরা শয়নকক্ষে ঢুকে দেখেন খাটের ওপর তহুরা, আয়েশা ও জারিনের নিথর দেহ পড়ে আছে। আশিকুরকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আশিকুরের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন মোল্লা জানান, বাবার মৃত্যুর পর ব্যাংক থেকে নেওয়া ২২ লাখ টাকা ঋণ শোধ করতে গিয়ে আশিকুরের ব্যবসার পুঁজি শেষ হয়ে যায়। নতুন করে ব্যবসা করতে পৈতৃক কিছু জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি করতে গেলে শরিকরা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব কারণে হতাশ হয়ে বেশ কিছুদিন ঘরবন্দি ছিলেন আশিকুর। 

এদিকে নিহত তহুরা বেগমের ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান জানান, আশিকুর মাদকাসক্ত ছিলেন; প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। সম্প্রতি আসাদুজ্জামান বোনের বাসায় গেলে জানতে পারেন, আশিকুর কয়েকদিন আগে তহুরাকে হত্যার চেষ্টা করেন। স্বামীর হাত থেকে বাঁচতে ভাইয়ের কাছে বাবার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন তহুরা। কিন্তু বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করে বাবা-মাকে কিছুই জানাননি আসাদুজ্জামান। 

তহুরার বাবা আব্দুল আলিম বলেন, ‘মোর ছাওয়া আর মাসুম বাচ্চাগুলিক ক্যাঙ্কা করি মারি ফেলাইছে বাহে? মুই তো ওমাক (আশিকুর) ভালো মনে করেছিনু।’
নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, অনেক দিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন আশিকুর। তিনি মনোরোগ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। ঘটনার পর তাঁর বাসা থেকে বেশ কয়েকটি চিকিৎসার ব্যবস্থাপনাপত্র জব্দ করা হয়েছে। সব ব্যবস্থাপনাপত্র মনোরোগ চিকিৎসকদের। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে বিছানার পাশ থেকে রক্তাক্ত চাকু পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার পর ওই চাকু দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন আশিকুর। 
জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। ঋণ শোধ করতে তিনি জমি বিক্রিরও চেষ্টা করেছিলেন। 

নীলফামারীর পুলিশ সুপার গোলাম সবুর সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা, হতাশা থেকে তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন আশিকুর। এর বাইরে অন্য সূত্র রয়েছে কিনা, জানার চেষ্টা চলছে। নিহত তিনজনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। শ্বাসরোধ করে অথবা চেতনানাশক কিছু খাইয়ে হত্যা করা হতে পারে। ওই বাসায় কিছু ঘুমের ওষুধও পাওয়া গেছে।

সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। 

 

আরও পড়ুন

×