সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সরকারিভাবে নির্মিত ম্যুরালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তাঁর ভাই ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর শুরু হয় সমালোচনা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ম্যুরালটি ভেঙে মূল ডিজাইন অনুযায়ী করা হবে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, মধ্যনগর সেতুসংলগ্ন স্থানে ৩০ দিনের মধ্যে ম্যুরালটি নির্মাণে গত ২৩ জুন স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রানা ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেন উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খান। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৪ টাকা। সরকারি ডিজাইন অনুযায়ী ম্যুরালটির একপাশে বঙ্গবন্ধু এবং অন্যপাশে শেখ হাসিনার ছবি থাকার কথা। তবে নিয়ম ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর ছবির নিচে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং তাঁর ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকনের ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা ট্রেডার্সের পরিচালক ইজাজুর রহমান রানা দাবি করেন, তাঁরা কাজটি করেননি। উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁর লাইসেন্স নিয়ে চুন্নু মিয়া নামে আরেকজনকে দিয়ে কাজটি করিয়েছেন।

চুন্নু মিয়া বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে ম্যুরালের ডিজাইন পরিবর্তন হয়েছে। নেত্রকোনাসহ অনেক উপজেলায় এভাবে করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। মেসেস পাঠালেও জবাব দেননি। এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনও কল রিসিভ করেননি।

ইউএনও মুনতাসির হাসান জানান, সরকারি টাকায় নির্মিত কোনো স্থাপনার ডিজাইন পরিবর্তন করা যায় না। এডিপির বরাদ্দে নির্মিত ম্যুরালটির ডিজাইন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এটি পরিবর্তন করতে হলে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিজাইন পরিবর্তনের অনুমোদন নিতে হবে। এরপরই কেবল তা পরিবর্তন করা যায়।

তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। আগামীকাল বুধবারই ঠিকাদারকে ডিজাইন অনুযায়ী ম্যুরাল নির্মাণের জন্য চিঠি পাঠাবেন।